অনলাইন ডেস্ক:

মহেশখালীর উত্তর নলবিলা এলাকায় কলেজ শিক্ষক পাষান্ড স্বামীর নির্মম আঘাতে নিহত আফরোজা খুনের ফায়দা নিতে শুরু থেকেই কিছু ষড়যন্ত্রকারী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

এমনকি প্রকৃত অপরাধীকে বাদ দিয়ে ঘাতক বাপ্পীর সৎ ভাইসহ নিরাপরাধ অন্যান্যদের ফাঁসানোর জন্য তথ্যপ্রমাণ বহির্ভূত উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ পরিবেশন করে ঘটনার মোটিভ ভিন্নখাতে নিতে মরিয়া হয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

শুরু থেকে ঘটনার পূর্বের ঘটনা পর্যালোচনা না করে ষড়যন্ত্রকারীদের দেয়া তথ্যে সংবাদ পরিবেশিত হয়ে আসছে বলে দাবি করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সংবাদকর্মী।

এতে করে তদন্ত কর্মকর্তাও বিভ্রান্তিতে পড়তে পারেন বলে জানান অনেকেই।

ইতিপূর্বে আফরোজা নারী কোর্ট ও স্থানীয় ইউপিতে দায়েরকৃত মামলা/অভিযোগে একমাত্র স্বামী বাপ্পির বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছিলেন। তবে ঘাতকস্বামী বাপ্পির সাথে তার পরিবারের কারো সাথে যোগাযোগ/সম্পর্ক না থাকায় তখন আফরোজা কাউকে আসামী করেনি বলে তথ্য প্রমান বলছে।

এরপর ঘাতক স্বামী বাপ্পি কতৃক আফরোজা খুনের ঘটনা ঘটে তখনই হীনস্বার্থে ঘটনায় বাদীপক্ষকে ব্যবহার করে যাচ্ছেন বলে জানান অনেকেই। যা এখন আর অজানা নয়।

নারী কোর্টে অভিযোগ দায়েরের পর বাপ্পি তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে অঙ্গীকারনামা দিয়ে স্ত্রী আফরোজাকে নিয়ে আসেন। অথচ পরবর্তীতে যখন নারী কোর্টে আফরোজাকে হত্যার অভিযোগে ফৌজদারী দরখাস্ত দেয় তখন বাপ্পিসহ আরো তিনজন ব্যক্তি অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর করেন বলে উল্লেখ করলেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়নি কোথাও।

এছাড়াও উক্ত অঙ্গীকার নামায় সাক্ষীর চারটি ক্রমিক থাকলেও কোন সাক্ষীর সাক্ষর নেই। এ বিষয়টি নিয়ে সরজমিন তথ্য সংগ্রহ করে বাস্তব ঘটনা ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় যথেষ্ট গরমিল পাওয়া যায়।

তবুও আফরোজা খুনের মামলায় তাদেরকে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্রকারীদের ইন্দনে আসামি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই তথ্যপ্রযুক্তির এযুগে ঘটনার ১নং আসামি বাপ্পির কল রেকর্ড় পর্যালোচনা দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

একটি কুচক্রী মহল সংবাদকর্মীদের মনগড়া পরিকল্পনায় তথ্যদিয়ে নিরাপরাধ ব্যক্তিদের ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করছে বলে জানান হাসান বশির এর পরিবার। এমনকি মূলঅপরাধীর থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিরাপরাধ ব্যক্তিদের জড়ানোর জন্য তদবিরে নেমেছেন তৃতীয় পক্ষ। তাই তদন্ত কার্যক্রমে তথ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে সচেতন মহলে।

মামলায় সংশ্লিষ্ট অনেকেই জানান, আমরা কেউ আইনের উর্দ্ধে নই। তথ্য প্রমাণে অপরাধী হলে অবশ্যই শাস্তি মাথা পেতে নেব। কিন্তু প্রযুক্তির এইযুগে মূলঅপরাধীর কল রেকর্ড ভাইরাল করলে ঘটনায় কে কিভাবে সম্পৃক্ত তা প্রমাণ হবে সেখানে অনেকেই এ বিষয়টাকে এড়িয়ে সংবাদ পরিবেশন করার উদ্দেশ্য টা বোধগম্য নই।

স্থানীয়রা বলেন, আমরাও চাই আফরোজা খুনের সঠিক বিচার, তবে শুরু থেকে ষড়যন্ত্রকারীরা যেভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে তাতে মূল অপরাধী কে বাদ দিয়ে নিরাপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানিতে ব্যস্ত বাদীপক্ষ। তাই তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবী তুলেন তারা।