মহেশখালী প্রতিনিধি::

প্রাক-ইসলামী যুগে যখন চরম উচ্ছৃঙ্খলতা, পাপাচার, দুরাচার, ব্যাভিচার, মিথ্যা, হত্যা, লুন্ঠন, মদ্যপান, জুয়ায় ভরপুর ছিল। অন্যায়-অপরাধ, দ্বন্ধ-সংঘাত, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য, নৈরাশ্য আর হাহাকার বিরাজ করছিল ঠিক এমন সময় মানবতার মুক্তির দিশারী সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ও সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সারা জাহানের হিদায়েতের জন্য আবির্ভূত হলেন। রাসুল (সাঃ) হলেন বিশ্ব মানতার জন্য আল্লাহর এক অনন্য রহমত স্বরুপ প্রেরিত। মহান বিশ্ব পরিচালক ঘোষণা করেনছেন, “আমি তোমাকে প্রেরণ করেছি বিশ্ব জগতের জন্য বিশেষ রহমত স্বরুপ।”

দিনটি উপলক্ষে প্রতিবারের মতো এবারও মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নে ঘটিভাংগা ১নং ওয়ার্ডে জশনে জুলুস ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করেন। ২০শে অক্টোবর সকাল ৮ টার দিকে ঘটিভাংগা জশনে জুলুস বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে ও ইমাম আ’লা হযরত (রহঃ) ইসলামী সংগঠনের সার্বিক সহযোগিতায় ঘটিভাংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ হতে জশনে জুলুসের মোনাজাত ও র‍্যালি বের হয়।

ঘটিভাংগা গ্রামে অলিগলি র‍্যালি শেষ করে তারা কুতুবজোমের বিভিন্ন ওয়ার্ডে র‍্যালি সহকারে ঘুরে আসেন।এছাড়া জশনে জুলুসে অংশগ্রহণকারীদের হাতে কলেমা তৈয়াবা এবং নানা ধরনের ইসলামিক বাণী ও স্লোগান লিখিত ব্যানারে সুসজ্জিত ছিল।মুখে মুখে ছিল নারায়ে তাকবির,নারায়ে রেসালাত ও গাউসিয়তের ধ্বনিতে কম্পিত হয় চারপাশ।

জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উপস্থিত ছিলেন, ঘটিভাংগা জশনে জুলুস বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও সাবেক দুইবার ইউপি সদস্য নুরুল আমিন খোকা, কুতুবজোম ১নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোঃ ছিদ্দিক রিমন, ইমাম আ’লা হযরত(রহ:) ইসলামী সংগঠনের উপদেষ্ট্রা আবুল কালাম আজাদ, ঘটিভাংগা জশনে জুলুস বাস্তবায়ন কমিটির অর্থ সম্পাদক সোনা মিয়া কোম্পানি, আজিজুল হক ও ঘটিভাংগা ইমাম আ’লা হযরত (রহঃ) ইসলামী সংগঠনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং সংগঠনের সদস্যবৃন্দ ও ঘটিভাংগার সর্বস্তরের জনসাধারণ।

প্রসঙ্গত, প্রায় ১৪০০শত বছর আগে এই দিনে হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। ৬৩ বছর বয়সে একইদিনে পরলোকগমন ত্যাগ।পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে ঘটিভাংগার বিভিন্ন মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

আখিরি মোনাজাত,মিলাদ মিয়াম ও তাবারুক বিতরণের মধ্যে দিয়ে জশনে জুলুস ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) সমাপ্ত হয় ঘটিভাংগা পূর্ব পাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে।