প্রিয় মহেশখালীবাসী
আস্সালামু আলাইকুম
সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা
আপনারা ইতিমধ্যে মহেশখালীর করোনা পরিস্থিতি জেনে গেছেন, গতকাল আমাদের ৫০টা নমূনা পরীক্ষা হয়েছে, তন্মধ্যে ০৯জন রোগী পজেটিভ পাওয়া গেছে৷ এর মধ্যে ০২জন হাসপাতালের স্টাফ, ০১জন পল্লী ডাক্তার, ০২জন সোনালী ব্যাংকের স্টাফ ৷ এই চিত্রই বলে দেয় আমাদের মহেশখালীতে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়েছে ৷ সুতরাং সামনে আমাদের আরো খারাপ দিন আসতেছে, যদি আমরা আরো সতর্ক না হই, স্বাস্থ্য বিধি মেনে না চলি, সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে দৈনন্দিন কাজকর্ম না করি ৷
আজকে আমি করোনা পরিস্থিতিতে আমার কিভাবে ঈদ উদযাপন করব সে বিষয়ে আলোকপাত করব ৷

*প্রথমত আমাদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের নামায পড়তে হবে, এই জন্য প্রত্যেক মসজিদ কমিটিকে অবশ্যই একাধিক ঈদের জামাতের ব্যবস্থা করতে হবে ৷ যাদের জ্বর,সর্দি,কাশি,গলা ব্যাথা আছে তাদেরকে ঈদের নামায বাড়ীতে পড়তে হবে ৷ কারন আমাদের মনে রাখা উচিৎ আমার কারনে অন্যকে ঝুকিঁতে ফেলার অধিকার আমার নেই ৷ ঈদের নামায বাড়ীতে কিভাবে পড়বেন সে বিষয়ে আলেমদের পরামর্শ গ্রহন করবেন ৷
*ঈদের নামায শেষ হওয়ার পর পারস্পরিক কোলাকুলি, হ্যান্ডসেক করা যাবেনা ৷
*ঈদের জামাতের পর আমরা সচারাচর আত্মীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধবের বাড়ীতে গিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করি ৷ এই ঈদে এটা একদম পরিহার করতে হবে ৷ মনে রাখতে হবে এটা করোনা কালের ঈদ, ব্যতিক্রমী ঈদ এবং এখন সবকিছুই ব্যতিক্রম ৷ এই ২০২০সালে যদি আমরা বেচেঁ থাকতে পারি এটাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় ঈদ উপহার এবং বড় ঈদ সেলামী ৷
*আপনার পার্শ্ববর্তী কেউ মহেশখালীর বাইর থেক ঈদ করতে আসলে তার ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে ৷ তার পরিবারের কেউ বা উক্ত ব্যক্তি যদি জ্বর, সর্দি,কাশি,গলা ব্যাথ হয় তাহলে স্বাস্থ্য বিভাগ এবং প্রশাসনকে জানান, তাকে নমূনা পরীক্ষা আওতায় আনতে সহায়তা করুন৷
*সাম্প্রতিক সময়ে ছোটমহেশখালীতে একই পরিবারে ০৬জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৷ উনার পরিবারের বয়োজৈষ্ট্য সদস্যকে জটিল একটা রোগের জন্য চট্রগ্রাম গিয়ে চিকিৎসা করানোর পর উক্ত পরিবারের সবাই করোনা আক্রান্ত হয় ৷ ঐ জন্য আমরা সব সময় বলি আপনারা ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন, একান্ত অপরাগতা ব্যতিত আগামী ০৩মাস মহেশখালীর বাইরে (কক্সবাজার,চট্রগ্রাম, বদরখালী,চকরিয়া) যাবেন না ৷
আমরা মহেশখালীবাসী আরো বেশী ঝুকিতে আছি করোনার নতুন হটস্পট চকরিয়া এবং কক্সবাজার সদরের কারণে ৷

এখন নতুন একটা সমস্যা হচ্ছে, নমূনা পরীক্ষার রেজাল্ট পেতে ০৩থেকে ০৫দিন সময় লেগে যাচ্ছে ৷ কক্সবাজার ল্যাবে প্রায় ৮০০মত নমূনা পড়ে আছে ৷
এক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ হল আপনার যদি লক্ষন অর্থাৎ জ্বর,কাশি,সর্দি,গলা ব্যাথা থাকে তবেই নমূনা পরীক্ষার জন্য সকাল ১১ঘটিকায় হাসপাতালের ২০নাম্বার রূমে যোগাযোগ করবেন ৷ আপনার যদি কোন লক্ষন না থাকে আপনি যদি করোনা রোগীর সংস্পর্শেও যান তাহলে নমূনা পরীক্ষার প্রয়োজন নাই, আপনার ১৪দিন বাড়ীতে থাকতে হবে, মাস্ক পরে থাকতে হবে, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের থেকে আলাদা থাকতে হবে ৷ এতে আপনার পরিবার নিরাপদে থাকবে ৷ নমূনা দেওয়ার পর আপনি অবশ্যই কোয়ারান্টাইনে থাকবেন ৷ বাইরে ঘুরাফেরা করবেননা, পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসলেও ১৪দিন আলাদা বাড়ীতে থাকাই উত্তম ৷
জাতী হিসেবে আমরা বিরল প্রজাতির, বিকল্প পন্হা অবলম্বনে আমরা অত্যন্ত পারদর্শী ৷ এই জন্য দেখা যায় প্রশাসন যখন মার্কেট বন্ধ ঘোষণা করে তখন আমরা লেইট নাইট শপিংএ মত্ত ৷ এটা খুবই দুঃখ জনক এবং হতাশার ৷ মনে রাখতে হবে এই বছরটা আমাদের করোনার বিরুদ্ধে সংগ্রামের বছর, বেচেঁ থাকার বছর, ভোগ বিলাসের বছর নয় ৷ এই জন্য পাড়া মহল্লার সচেতন মহলকে অগ্রনী ভূমিকা রাখতে হবে, সন্দেহজনক করোনা রোগীর ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে ৷ আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই সংকটকালে নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে বুঝার তৌফিক দিন এই কামনায় আজকে শেষ করছি, খোদা হাফেজ ৷
পরামর্শক:-ডা:মাহফুজুল হক