আ ন ম হাসান:

কোহেলিয়া নদীটি দিন দিন তার অস্তিত্ব হারাচ্ছে। চলমান মাতারবাড়িতে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের কারণে এই নদীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে রয়েছে ৷

এক সময়ের জীবিত কোহেলিয়া নদীটি এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে ৷ অথচ এই নদীর উপরই নির্ভরশীল একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী। নদীর অস্তিত্ব সংকটের পাশাপাশি সংকটে পড়েছে তার উপর নির্ভরশীল মানুষ গুলো। নদীর পাশাপাশি মানুষ গুলোর পেশাও মৃত্যুর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেকে পেশা বদলেছে। কেউ জীবিকার তাগিদে বাড়িঘর ছেড়েছে। কেউ কেউ আশায় বুক বেঁধে আছে একদিন না একদিন নদীটি বেঁচে উঠবে বলে। কোহেলিয়া নদী যেমন মানুষের জীবন জীবিকায় ভূমিকা রেখেছে, তারচেয়ে বেশি রেখেছে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়। তাই নদী বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এখানকার মানুষ।

সরজমিনে কোহেলিয়া নদী পরিদর্শনে দেখা যায়, নদীটি বর্তমানে মৃতপ্রায় অবস্থায় আছে। ভরাট হয়ে ইতিমধ্যে নদীর গতিপথ ও অবকাঠামো চরম সংকটে পড়েছে। ভাটার সময় শুকিয়ে গিয়ে নদী দিয়ে ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
নদীর পাশে বসবাসরত স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কোহেলিয়া নদীটি বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে। সেই আদিকাল থেকেই পুরো মহেশখালীর বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনে নদীটির ভূমিকা অপরিসীম ৷ কয়েক বছর আগেও নদীটির ব্যাপক গভীরতা ছিল। ভাটার সময়ও বিনা বাঁধায় বোট চলাচল করতে পারত ৷ নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো প্রায় কয়েকশত পরিবার। আর অল্প সময়ের ব্যবধানে নদীটি তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। এভাবে চলতে থাকলে মানচিত্র থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে এক সময়ের প্রাণচঞ্চল কোহেলিয়া নদী। আর সংকটে পড়বে পরিবেশ আর নদীর উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী গুলো।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের সর্ববৃহৎ কয়লা ভিত্তিক কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ চলছে মহেশখালীর মাতারবাড়িতে। লবন চাষের নীচু জমি ভরাট করে এ নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। এই নির্মাণাধীন প্রকল্পের বর্জ্য ও পলিমাটি সরাসরি কোহেলিয়া নদীতে ফেলা হয়। যার কারণে নদীটি দিন দিন ভরাট হতে থাকে। এছাড়াও কোহেলিয়া নদী ঘেষে তৈরী করা হচ্ছে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যাওয়ার প্রায় ১৪ কিলোমিটার রাস্তা। এসব কারণে নদী ভরাট হয়ে জ্যামিতিক হারে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। বর্তমানে নদীর অবস্থা এমন হয়ে দাড়িয়েছে যে, ভাটার সময় শুকিয়ে গিয়ে বোট চলাচল বন্ধ থাকে।

অপরদিকে নদীর চর দখল করে চিংড়ী ঘের ও বেশ কয়েকটি দোকান ঘর তৈরী করছে প্রভাবশালী মহল।

এদিকে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মহেশখালী শাখার সভাপতি মুসাদ্দেক ফারুকী বলেন, নদী রক্ষায় আমরা ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা সহ বিভিন্ন আন্দোলন করেছি। যার কারণে নদীর পাড় ঘেষে তৈরী করা সড়কের কাজ বন্ধ ছিল। সড়কটি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য তৈরী করা হচ্ছে। কিন্তু তা অধিগ্রহণকৃত জমিতে না করে নদীর পাড়ে করা হচ্ছে। এতে নদী ভরাট হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের পরামর্শে প্রতিবাদ করা হবে।