শহিদুল হক সোহেল

বৈশ্বিক এই ক্রান্তিকালে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও মহা দূর্যোগের মুখোমুখি। দেশের এই ক্রান্তিকালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন তাঁর সর্ব্বোচ্চ ত্যাগ, নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা এবং সুনিপুণ নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের জনগণকে এই মহাদূর্যোগ থেকে রক্ষা করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তখন আমাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে দেখতে পাই ঠিক তার উল্টো চিত্র। এ যেন সুকৌশলে সরকারের সকল অর্জনকে এক নিমেষে ধুলোয় মিলিয়ে দেওয়ার জন্য এক গভীর ষড়যন্ত্র। পর্যটন নগরী কক্সবাজার এখন কোভিট-১৯ এর রেড জোনে অবস্থান করছে। কিন্তু তার বিপরীতে কক্সবাজার এর মানুষ পাচ্ছেন না পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা। রোগীর তুলনায় হাসপাতালের সেবার মান ভয়াবহ অপ্রতুল। মানুষকে নানা বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হচ্ছে।
আজ সকালে কক্সবাজার জেলা যুবলীগ নেতা আনোয়ার করিম করোনা উপসর্গ নিয়ে সদর হাসপাতালে কোভিট-১৯ টেস্ট দেওয়ার জন্য সদর হাসপাতালে যায়। কিন্তু সেখানে তাকে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয়। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর আনোয়ার যখন তার নমুনা সংগ্রহের জন্য দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেন, তখন তার নমুনা নেয়া হবেনা বলে একজন নার্স তার সাথে অশালীন ব্যবহার করে। পরে আনোয়ার বিভিন্ন তদবির এর মাধ্যমে তার নমুনা দিতে সক্ষম হয়। তাকে আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি দেওয়া হয়। কিন্তু ভর্তি দেওয়ার পর রাত ১২ টা পর্যন্ত তার কাছে কোন চিকিৎসক তো দূরের কথা কোন নার্স স্টাপও আসেনি। করোনা উপসর্গ ছাড়াও আনোয়ার একজন হাই প্রেশারের রোগী। সে নিজেই বুঝতে পারছে না আসলে সে কি করবে?

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে ইউনিটের হাল ধরে আছে তরুণ ও জুনিয়র ডাক্তাররাই। সিনিয়র কোন ডাক্তারদের কেউ আইসোলেশন ইউনিটে যান না। বেশীর ভাগ সিনিয়র ডাক্তার নানান অজুহাতে নিজেদেরকে কোয়ারেন্টাইন এ নিয়ে গেছেন। যার কারণে সদর হাসপাতালের করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীরা বলতে গেলে কোন চিকিৎসাই পাচ্ছেন না।

আজকের আরেকটি করুণ ও অমানবিক অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি। তাহলে বুঝতে পারবেন সদর হাসপাতালে আসলে কি হচ্ছে- কক্সবাজার এর নুনিয়া ছড়া মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি করোনা উপসর্গ নিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। আজ রাতে তাঁর শ্বাস কষ্ট বেড়ে গেলে তাকে আইসিইউতে নেয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তাকে আইসিইউতে নেওয়া তাগিদ দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় সদর হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য কোন আইসিইউ’র ব্যবস্থা নাই! তারপর সে নিদেনপক্ষে তাকে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বললে, কর্তৃপক্ষ জানায় হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেন এর ব্যবস্থা নাই। পরে তার পরিবার বাইরে থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার এর মাধ্যমে অক্সিজেন এনে তাঁকে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এই হচ্ছে আমাদের সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মান। এছাড়া আরো অনেক অব্যবস্থপনা আছে যেগুলির কারণে কক্সবাজার এর মানুষ আজ আতংকিত। যেমন একজন করোনা সন্দেহ রোগীর টেস্টের রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৮-১০ পর যা সমাজের জন্য ভয়ংকর একটা বিষয়।

চিকিৎসা পেশা অন্য পেশা গুলোর মতো নয়। এটি একটি মহান পেশা। এই পেশায় মানব সেবাটাই প্রধান ব্রত। কিন্তু স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বলে যদি আপনারা রোগীর সেবা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তাহলে আমি বলবো আপনাদের এই মহান পেশায় আসাটাই উচিত হয়নি। আপনাদের কারণে সরকারের এত এত অর্জনগুলি যদি ম্লান হয়ে যায় তাহলে সে দায়ভার কে নিবেন? এই অব্যবস্থাপনাগুলি কি অনিচ্ছাকৃত বা সম্পদের অপ্রতুলতার কারণে নাকি সরকারকে বিব্রত করার কোন সুনিপুণ গভীর ষড়যন্ত্র????