নিউজ রুম:-

“কবে সচেতন হব আমরা”

মহেশখালী এই পর্যন্ত ১৮জন রুগী সনাক্ত হয়েছে৷ তন্মধ্যে সুস্থ হয়ে ফিরছে ১২জন৷ নতুন পাঁচজন সহ বর্তমানে রোগী আছে ০৬জন৷ লক্ষন উপসর্গ ছিলনা প্রায় সবকটি রুগীর৷ পরীক্ষায় পজেটিভ আসার পর তাদের আইসলোশনে রেখে পরবর্তিতে পর পর দুইবার পরীক্ষায় নেগেটিভ আসার পর তাদেরকে বাড়ীতে পাঠানো হয়েছে৷ লক্ষন উপসর্গ না থাকলেও তাদের শরীরে কভোডি-১৯জীবানুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে৷ এই লক্ষন উপসর্গহীন রুগীরাই অসাবধানতা বশত বেশী ছড়াতে পারে এই ভাইরাস৷

শরীরে কোন উপসর্গ না থাকায় সামাজিক দূরত্ব না মেনে একজন অপরজনের সংস্পর্শে যাচ্ছি আমরা৷ গাড়ীতে, বাজারে সবখানে টাসাটাসি আমাদের অবস্থান৷ এভাবেই খুব বেশী ছড়াতে পারে এই ভাইরাস৷ বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসে আক্রমনের সংখ্যা সারা বিশ্বে দিন দিন কমলেও আমাদের দেশে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। ভাইরাসটি এই মুহুর্তে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে দিন দিন এই দুর্যোগ আরো ভয়াবহ রূপ ধারান করবে৷ ও এই ভাইরাসটি আমাদের দেশে থেকেই যাবে৷ আর এই ভাইরাস থেকে যাওয়ার পিছনে একমাত্র আমাদের অসাবধানতাই দায়ী৷ আমরা আশে পাশে থাকালেই দেখতে পাই এতদিন পরও আমরা কথটা সচেতন৷ দীর্ঘ দুই মাসের কাছাকাছি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে লকডাউনের মধ্যে থেকেও আমরা আমাদের পুরানো অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারিনি। হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার করা,সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা এই কাজগুলো আমরা কোনভাবেই মানছিনা৷

এখনো ঈদ আনন্দের জন্য স্বপরিবারে রাত ০৩টায় বের হচ্ছি কেনাকাটার জন্য। আমরা কি একবারও ভেবে দেখেছি পরিবারের একজনের নমুনা টেস্টে পজিটিভ আসলে কি অবস্থা হবে? সবার ঈদ মাটি হবেই, সাথে পুরা পরিবারটাই পড়ে যাবে শংকায়৷ আমরা যাদের জন্য এতদিন সরকারের কাছে সাহায্য চাইলাম, বিদ্যুৎ বিল, বাড়ি ভাড়া মওকুপ করার কথা বলে আসছিলাম আজ তারাই ধারদেনা করে ঈদের কেনাকাটা করতে মার্কেটে৷ অথচ আমরাই সরকারের নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে করোনা ঝুঁকি উপেক্ষা করে ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত ।

এভাবে চলতে থাকলে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে আরো করুন পরিনতি৷ ভেবে দেখুন ঈদের এই কেনাকাটা যেন আমাদের জন্য অভিশাপ না হয়।বর্তমানে যে হারে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে আমরা সচেতন না হলে করোনা প্রতিরোধ অসম্ভব। আসুন আমরা সচেতন হই, মেনে চলি স্বাস্থ্যবিধি৷ জরূরী প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাবেননা৷ জরূরী প্রয়োজনে বের হলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, অবশ্যই মাস্ক পরে বের হবেন৷নিজে বাঁচুন, পরিবার পরিজনকে বাচাঁন৷ বেশী বেশী আল্লাহকে স্মরন করুন৷

লেখক:-মনির বিন সুলতান

স্বাস্থকর্মী মহেশখালী।