নিউজ ডেস্ক:

মহেশখালী মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পে সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ” সংক্রান্ত উন্নয়ন কাজে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের জন্য গঠিত কমিঠির বিশেষ MIDI সভা সম্পন্ন হয়েছে।

উক্ত মিডি মিটিং এ মাতারবাড়ী বাসীর পক্ষ থেকে ১৮ টি দাবি উত্থাপন করা করেছেন মাতারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব জিএম ছমি উদ্দিন ও মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাষ্টার মোহাম্মদ উল্লাহ।

দাবিগুলো হলো:

১. এককালীন অনুদান ২২০০০০/- টাকা প্রতিজন ওয়ারিশকে দিতে হবে। সিঙ্গাপুর প্রজেক্টে ২০০০ জন ও জাইকা প্রজেক্টে ১০০০ জন ওয়ারিশকে এককালীন অনুদান দেওয়া হয়েছে । কিন্তু সিঙ্গাপুর প্রজেক্টে আরও প্রায় ১২০০ জন ও জাইকা প্রজেক্টেআরও প্রায় ৪০০০ জন ওয়ারিশ এককালীন অনুদান পাইনি যার ফলে ওয়ারিশদের মধ্যে দ্বন্ধ-সংঘাত লেগে রয়েছে । এমতাবস্থায় উভয় প্রকল্পে এককালীন অনুদান প্রদান অব্যাহত রাখতে হবে।

২. সিঙ্গাপুর প্রজেক্টে আগামী  ১ মাসের মধ্যে শ্রমিকের ২৮৫০০০/- টাকা প্রদান আরম্ভ করতে হবে এবং শ্রমিক নিতে গড়ি-মসি করা যাবে না ।

৩. জাইকা প্রজেক্টে আরো শ্রমিক আছে যাদের মোটেও জরিপভুক্ত করেন নি । শ্রমিক দেওয়া হয়নি এরকম আরও ৪০০ একর জমি রয়েছে । তাছাড়া লবণ বহনকারী, মাটি-কাটা,পোনা ব্যবসায়ী সহ অনেক শ্রেণী-পেশার  শ্রমিককে জরিপভুক্ত করা হয়নি তাদের অর্ন্তভুক্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।

৪. এখনও পর্যন্ত অনেক জমির মালিকের  (২৭-৩০) টাকা বন্ধ । সকল প্রকার কাগজপ্রত্র জমা দেয়া আছে কিন্তু টাকা আসেনা । শ্রমিকের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা ।

৫. জমির মালিকদের ১ বছরের একটি ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা চেয়ারম্যানের সাথে মিটিং হওয়া সত্ত্বেও তার গতি বন্ধ কেন ?

৬. প্রতিটি কোম্পানী কোন ধরণের তোয়াক্কা না করে বাহিরের শ্রমিক আনা অব্যাহত রেখেছে । ইতিমধ্যে বিভিন্ন কোম্পানীতে চাকুরীচ্যুত সকল শ্রমিকের চাকুরী ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্তত আরও ১০০০ জন স্থানীয়দের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। এলাকার শিক্ষিত বেকারদের প্রকল্পে চাকুরী নিশ্বিত করতে হবে।

৭. পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় সমাধান আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে করতে হরে অন্যথায় মাতারবাড়ী বাসী সম্পূর্ণ পানি বন্ধি থাকবে ।

৮. মাতারবাড়ী ৭০ নং ফোল্ডারের বেড়ী বাuধের অস্তিত্ব বিলীন প্রায় । অচিরেই ব্যবস্থা নিতে হবে ।

৯. কোন কোম্পানীতে ব্যবসা ক্ষেত্রে স্থানীয়দের গুরুত্ব দেয়া হয়না । লভ্যাংশ ভাগের আশায় তাদের নিজস্ব দালালদের কাজ দেওয়া হয় । ব্যবসা ক্ষেত্রে স্থানীয়দের গুরুত্ব দিতে হবে।

১০. প্রকল্পের কাজে ‍নিয়োজিত বহু ভারী-ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে মাতারবাড়ীর অভ্যন্তরীণ রাস্তা-ঘাটের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক । কতৃ©পক্ষের সেদিকে কোন প্রকার নজর নেই । সমগ্র এলাকা ড্রেনিং সিস্টেমের আওতায় এনে পানি নিষ্কাশন সহ রাস্তা-ঘাট মেরামত করতে হবে।

১১. করোনার আপদকালীন অনুদান হিসেবে কমপক্ষে ১০০ টন চাল বরাদ্ধ দিতে হবে ।

১২. টেকনিক্যাল স্কুলের ভরাট কাজ,ভবণ নির্মাণ ও আগামী বছরের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ।তাছাড়া উক্ত স্কুলের মাটি ভরাট বাবদ অনেক বিল পাওনা আছি তা দেয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।

১৩. কোহেলিয়া নদী প্রায়ই ভরাট হয়ে গেছে তা ড্রেজিং সিস্টেমের আওতায় এনে নদীর নাব্যতা ফিরে পাওয়ার ব্যবন্থা নিতে হবে।

১৪. পূর্ণবাসনের ৫০ টি ঘরের মধ্যে ৪৪টি ঘর দিলেও বাকী ৬টি ঘরের কোন খবর নেই । ক্ষতিগ্রস্থ অনেকের আবেদনের প্রেক্ষিতে সাবেক ডি.সি মহোদয় আরও ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও এখনো তা নির্মানের কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি কেন ?

১৫. মাতারবাড়ী বন্দরে মাতারবাড়ী-ধলঘাট বাসীর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার নিশ্বিত করতে হবে ।

১৬. কিছুদিন আগের কাল-বৈশাখী ঝড়ে প্রকল্প হতে বালি-কাuদা এসে গ্রামবাসীর অনেক পাকা ফসল নষ্ট হয়ে যায় । বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় অবগত আছেন । অনতিবিলম্বে তা যাচাই-বাছাই করে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নিতে হবে।

১৭. ১নং খাস-খতিয়ান ভুক্ত জমি লিজিং এর মাধ্যমে চাষাবাদ করে অনেকেই তাদের জীবিকা নির্বাহ করত । অধিগ্রহণকৃত জমির মধ্যে খাস জমি অর্ন্তভুক্ত থাকায় অনেক লিজভুক্ত জমির মালিক কোন প্রকার ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় কষ্টে দিনানিপাত করতে হচ্ছে । এমতাবস্থায় তাদের ক্ষতিপূরণের আওতায় আনতে হবে ।

১৮. বর্গাচাষীদের ক্ষতিপূরণ চালু রাখতে হবে ।

মাতারবাড়ী বাসীর পক্ষে
জি.এম ছমি উদ্দিন (সভাপতি – মাতারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ)

মাষ্টার মোহাম্মদ উল্লাহ (চেয়ারম্যান – মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ)