সাইফুল ইসলাম (চকরিয়া প্রতিনিধি)

চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাজার পাড়ায় যৌতুক লোভী স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির অবহেলায় যমজ বাচ্চাসহ গর্ভবতী মায়ের করুণ মৃত্যু।

এলাকাবাসীর সূত্রে থেকে জানা যায় এক বছর তিন মাস আগে হারবাং বাজার পাড়া নিবাসী মৃত গুরা মিয়ার ছেলে মোঃ এনামুল হক(২৬) এর সাথে উত্তর হারবাং বত্তাতলী নিবাসী হত দরিদ্র সামসুল আলমের মেয়ে জুসনা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের দু-এক মাস পর থেকেই স্বামী এনামুল এবং তার পরিবার যৌতুকের দাবীতে তার স্ত্রীকে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন।

উক্ত পরিস্থিতির মধ্যে স্ত্রী জুসনা আক্তার অন্তঃসত্ত্বা হলে বেড়ে যায় নির্যাতনের মাত্রা পরে তা সহ্য করে স্বামীর ঘরেই থেকে যায় স্ত্রী জুসনা আক্তার। অন্তঃসত্ত্বা সময় চলাকালীন স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির কেউ তাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেননি।

অবশেষে মেয়ের বাবা-মা গর্ভকালীন সময়ে শ্বশুরবাড়ির লোকদের চিকিৎসার জন্য বললেও স্বামী এনামুল এবং শ্বশুর বাড়ির লোকজন তা না করে উল্টো অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে দিয়ে ঘরের সমস্ত কাজকর্ম করাতে থাকলেন।

নিহত জুসনার মা বলেন, তার মেয়ের শারীরিক অবস্থা দেখে তার বাবা শামসুল আলম তার মেয়েকে চকরিয়ায় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চেক-আপ করান এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে জানতে পারেন তার মেয়ের পেটে যমজ সন্তান রয়েছে সাময়িক চিকিৎসা শেষে ডাক্তারের রিপোর্ট সহ তার মেয়েকে শশুর বাড়িতে দিয়ে আসেন মেয়ের পিতা এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়ার কথা বলে আসেন মেয়ের স্বামী ও তার পরিবারকে। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোক কোন প্রকার চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে উল্টো যৌতুকের জন্য শারীরিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে যান।

তাছাড়া, নিহত জুসনার পিতার অভিযোগ, মেয়ের প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলেও তাদেরকে কোন সংবাদ দেইনি শ্বশুর বাড়ির লোকজন। নিহত মেয়েটির মা প্রতিবেশী এক মহিলার কাছ থেকে শুনে ছুটে আসলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করতে সহযোগিতা করা হইনি।

অপরদিকে মেয়ের মা ২রা জুন শ্বশুর বাড়ি থেকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন কিন্তু শ্বশুর বাড়ির লোকজন তা অগ্রাহ্য করে ঘরে নরমাল ডেলিভারি করানোর জন্য স্থানীয় ধাত্রীর দারস্থ হন এবং এরপরদিন ৩ জুন মেয়ের অবস্থা আশংকাজনক হলে মেয়ের মা সিএনজি যোগে মেয়েকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করলে বাঁধা হয়ে দাড়ায় শশুর বাড়ির লোকজন।শেষ পর্যন্ত মেয়েকে হাসপাতালেও নিত পারলোনা অভাগা মা চোখের সামনেই মেয়ে এবং দুই যমজ শিশুর মৃত্যুর দৃশ্য দেখতে হলো এই হতভাগা মাকে।

এই ঘটনায় পিতা শামসুল আলম বলেন বিয়ের পর থেকে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসা তার মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পরেও অনেকটা মানবেতর জীবন যাপন করে আসছিলেন। বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য চাপ দিয়ে আসা স্বামী, শাশুড়ী ভাশুরদের নিত্য নৈমিত্তিক কাজ ছিল।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উক্ত ঘটনার পর থেকেই ডেলিভারি করানো ধাত্রী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন ইতিমধ্যে উধাও হয়ে গেছে যার কারনে সবার সন্দেহ মেয়েটিকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। উক্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনের পরামর্শে যমজ সন্তান ও মায়ের লাশ দাফন করা হয়েছে।

নিহত জোসনার নামের মেয়েটির পিতা, উক্ত ঘটনার ব্যাপারে বিচার চেয়ে বিভিন্ন জায়গায় দারস্থ হন। এছাড়া ঘটনাটি নিয়ে নিহতের পিতা গত ১০ই জুন চকরিয়া থানায় এজাহার দায়ের করেন যা বর্তমানে চকরিয়া থানার অন্তর্ভুক্ত হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির এস আই পারসিৎ চাকমার হাতে তদন্তে রয়েছে বলে যানা গেছে।