নিউজ ডেস্ক:

প্রতিভা কোনো সীমাবদ্ধ সিদ্ধিতে সন্তুষ্ট থাকে না, অসন্তোষই তার জয়যাত্রা পথের সারথি-বলেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এটাই সত্য একজন কর্মঠ দায়িত্বশীল অফিসারই পারেন শ্রম ও সুদক্ষতার মাধ্যমে একটি উপজেলার আমূল পরিবর্তন করতে। তার বাস্তব উদাহরণ হচ্ছে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজের একের পর এক কার্যকরী উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে বদলে যাচ্ছে পুরো চকরিয়া উপজেলার চিত্র। তিনি ২০২০ সালের ১৯ এপ্রিল চকরিয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর যোগদানের পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড নবরূপে রূপান্তরিত হতে শুরু করেছে।

জানা গেছে, সৈয়দ শামসুল তাবরীজ করোনাকালের শুরুতেই চকরিয়া উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কভিড-১৯ মোকাবিলায় পুরো উপজেলার তিনি ‘রক্ষাকর্তা’র ভুমিকায় উপনীত হন। রাতে কিংবা দিনে করোনাকালীন সময়ে তিনি মাঠ ছাড়েননি। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় একের পর এক উদ্যোগ গ্রহণ করে শুরুতেই তিনি পুরো উপজেলায় তাক লাগিয়ে দেন। উপজেলার হাসপাতালগুলোতে সংযুক্ত করেন হাইফ্লো অক্সিজেন ও আধুনিক সেবা সুবিধা।

পরে মুজিববর্ষ উপলক্ষে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১৪৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয় পতাকার প্রতিচ্ছবিতে লালসবুজ রঙে সাঁজিয়েছেন। সামাজিক দূরত্ব মেনে আয়োজন করেছেন বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে হস্তশিল্প ও দেশীয় পণ্য তৈরির নানা অনুষ্ঠান, এতে ছিলো বাঙালি সংস্কৃতি রক্ষায় গ্রামীণ পিঠা উৎসব। পাশাপাশি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ চকরিয়ার ১৮০টি প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারকে গৃহ নির্মাণ ও উপহার প্রদান।

এছাড়াও মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, বিপুল পরিমাণ সরকারি খাস জমি উদ্ধার, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে উপজেলা সড়কের প্রশ্বস্তকরণ বৃদ্ধি। এমনকি উপজেলার সকল অফিসে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করেন তিনি। যার ফলে অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে সকল উন্নয়নমূলক ফাইল তড়িৎ গতিতে হচ্ছে।

উপজেলা অফিসে মুক্তিযোদ্ধা ও নাগরিকদের বসার জন্য দৃষ্টিনন্দন ব্যবস্থাসহ ইউএনও বাংলো ও কনফারেন্স রুম আধুনিকায়ণ করেন। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিরসনে ৮ ইউনিয়নে তিন বছর যাবত বন্ধ থাকা জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম পুনরায় চালু করেন। বাজারের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এতে যুগান্তকারী কিছু পদক্ষেপ এখনো চলমান রয়েছে। তাঁর উন্নয়নমূলক কাজকর্ম স্বচক্ষে দেখে গোটা চকরিয়াবাসী তাঁকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। অনেকেরই দাবি, ইউএনও সৈয়দ শামসুল তাবরীজ কক্সবাজার জেলা প্রশাসন তথা সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন।

নিভৃতে নির্সগ’ দেখার মতো একটি বিনোদন স্পট

এছাড়াও মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক, শিক্ষার্থীসহ অসহায় মানুষের বিপদের বন্ধু ছিলেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। কর্মস্থলে অসংখ্য গরিব দুঃখী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। দক্ষতা ও সুনামের সাথে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সুযোগ পেলেই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। খবরের কাগজ কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো অসহায় মানুষের খবর আসলে ছুটে গিয়েছেন তাদের বাড়ি বা ডেকে এনেছেন তার কার্যালয়ে। যতটা সম্ভব প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি অনেক সময় ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং নিজ অর্থে অনেকের পাশে থেকেছেন। অনেক শিক্ষার্থীকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা করে লেখাপড়া করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সুত্রগুলো জানায়, দুই পা হারানো চকরিয়ার জহিরুল ইসলাম ও টাকার অভাবে তৃতীয় বর্ষে ভর্তি হতে না পারা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও এতিম ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। চকরিয়ার কোনাখালী মরংঘোনায় আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত ১৮ পরিবারকে তাৎক্ষনিকভাবে সরকারি ও ব্যক্তিগত সহযোগিতা করেছেন। ১৮ ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণসহ চকরিয়ার ফাইলেরিয়ায় আক্রান্ত আব্দুর রহমানকে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। কথা হলে রহমান চোখের কোণে অশ্রু জমিয়ে কাতর কণ্ঠে বলেন, ‘টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারিনি, কখনো ভাবিনি আমার চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে। কিন্তু ইউএনও স্যারের উছিলায় আমার চিকিৎসা হবে জেনে খুশি লাগছে।’

ইউএনও’র এসব সাফল্যের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে চকরিয়ার তৌহিদুল ইসলাম নামে একজন বলেন, ‘সরকারের একজন উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং মানবসেবক হিসেবে ইউএনও সৈয়দ শামসুল তাবরীজ স্যার অসাধারণ একজন মানুষ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি চকরিয়ায় তাঁর আগমনের পর থেকে গণমানুষের মৌলিক চাহিদা এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। কারণ সরকারের অর্পিত প্রতিটি দায়িত্ব পেশাদারিত্বের সাথে তিনি সঠিক ভাবে পালন করেছেন। যার কারণে চকরিয়ার প্রতিটি গ্রামে গ্রামে সরকারের বরাদ্দ সুষমভাবে বন্টন হয়েছে এবং গরিব অসহায় মানুষের দুয়ারে সরকারের উন্নয়ন পৌঁছেছে। উনার ভালোবাসা এবং সততায় চকরিয়ার আপামর জনসাধারণ মুগ্ধ, যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার সহায়ক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।’

চকরিয়া উপজেলার একাধিক লোকজন জানান, বর্তমান ইউএনও এর বড় একটি পদক্ষেপ হলো চকরিয়া উপজেলাধীন সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নে পর্যটন স্পট নিভৃতে নির্সগ গড়ে তোলা। ইউএনও’র একক চেষ্টা আর উদ্যোগে নিভৃতে নির্সগ নামক পার্কটি বাস্তবে রুপ পায়। পার্কটির আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন করেন কক্সবাজার জেলার সদ্যবিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো.কামাল হোসেন। 

সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম বলেন, ‘পাহাড়ের তলদেশে বহমান ঝিরি। এর পাশেই অপরূপ এক পর্যটন জোন “নিভৃতে নির্সগ”। স্যার একজন ইউএনও হিসেবে যেমন সৃজনশীল। তেমনি মানুষ হিসেবেও অসাধারণ। তিনি উদ্যোগ না নিলে কখনো “নিভৃতে নির্সগ” পার্ক গড়ে তোলা সম্ভব হতো না।’ চকরিয়া উপজেলার তরুণ এক মানবিক সংগঠক, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী আলী তানভীর জানান, ‘ইউএনও স্যারের হাত ধরে চকরিয়া ধীরে ধীরে মডেল উপজেলায় রূপ পাচ্ছে।’

সামগ্রিক বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, আমি কর্মে বিশ্বাসী। আমার দায়বদ্ধতা থেকেই এ সকল উন্নয়নমূলক কাজ করছি। এসব কাজে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সকল জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দরা আমাকে সহযোগিতা করেছেন। যেহেতু ছাত্রজীবন থেকে মানবসেবার প্রতি আমার দুর্বলতা ছিল। বিসিএস প্রশাসনিক ক্যাডারে চাকরি হওয়ায়, নিজ দায়িত্ব থেকে মানবসেবা করার আরো বেশি সুযোগ পেয়ে যাই। প্রকৃতপক্ষে ভালো কাজ করলে সবাই সহযোগিতা করেন। সুতরাং যতটুকু পেরেছি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। দোয়া চাই সকলের। ভবিষ্যতেও যেনো এ ধারা অব্যাহত থাকে।