1. dwipnews24.info@gmail.com : Dwip News 24 :
  2. editor@dwipnews24.com : Newsroom :
দীর্ঘ ২৮ বছর পর প্রধানমন্ত্রী আসছেন মাতারবাড়ী, সমাবেশে ২০ টি দাবি উত্থাপন করা হউক | দ্বীপ নিউজ
February 22, 2024, 2:28 am
শিরোনাম :
মাতারবাড়ীতে সাংবাদিকদের হাত-পা কেটে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান রাজাকে বিভিন্ন মহলে অভিনন্দন কক্সবাজার জেলা থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে জয়িতা সম্মাননা পেলেন শাহরিন জাহান মহেশখালীতে ভুমিহীন ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জীবন জীবিকার সুরক্ষার তাগিদে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কক্সবাজার-২ থেকে ইসলামী ঐক্যজোটের মনোনয়ন পাচ্ছেন সাংবাদিক নেতা মাওলানা ইউনুস মহেশখালীতে তুচ্ছ ঘটনায় নিহত ১, নগদ টাকাসহ ৩০ লক্ষ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ  দীর্ঘ ২৮ বছর পর প্রধানমন্ত্রী আসছেন মাতারবাড়ী, সমাবেশে ২০ টি দাবি উত্থাপন করা হউক ডুসাম’র নবীন বরণ, বিদায়, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও স্মরণিকা “মিষ্টি পান” এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত মহেশখালীর কুতুবজোমে পুলিশের অভিযানে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার জামিয়া আরবিয়া ইসলামিয়া গোরকঘাটা (মাদ্রাসার) পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান ও অভিভাবক সম্মেলন সম্পন্ন

দীর্ঘ ২৮ বছর পর প্রধানমন্ত্রী আসছেন মাতারবাড়ী, সমাবেশে ২০ টি দাবি উত্থাপন করা হউক

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৯, ২০২৩
  • 66 ভিউ

রিয়াদ মোহাম্মদ সাকিবঃ 

পদে পদে বৈষম্যর স্বীকার হওয়া একটি অঞ্চলকে স্বাধীনতার স্বাদ আস্বাদন করানোর মাধ্যমে, স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্টার সফল অগ্রনায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা সফল রাষ্ট্রনায়ক জননেত্রী “শেখ হাসিনা” দীর্ঘ ২৮ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো দেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালীর মাতারবাড়ী আসছেন আগামী ১১ই নভেম্বর।

উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে তথা ১৯৯৫ সালে, ৯১ এর ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী মাতারবাড়ী সহ মহেশখালীর উপকূলীয় এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ অবস্থা দেখে – তা পরিদর্শন ও সহায়তা নিয়ে এসেছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলের নেত্রী শেখ হাসিনা। তখনকার সময়ের সরকার তেমন কোন কার্যকরি পদক্ষেপ না নিলেও, বিরোধী দলের এই নেত্রী এসেছিলেন মাতারবাড়ীতে বুকভরা ভালোবাসা এবং সহায়তা সামগ্রী নিয়ে। মাতারবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের জনসভায় লাখ লাখ নারী-পুরুষের সমাগম ঘটেছিল ‘শেখের বেটি’র আগমন উপলক্ষে। সেদিনের নারী-পুরুষের উপস্থিতি দেখে তিনি বক্তৃতায় মাতারবাড়ীকে ওনার নানার বাড়ি তথা (দ্বিতীয় টুঙ্গিপাড়া) হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পরবর্তীতে মাতারবাড়ীতে আওয়ামী রাজনীতির প্রয়াস বেগবান হতে থাকে এবং আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

“২৮ বছর পর দ্বিতীয় বারের মতো শেখের বেটি আসছেন ওনার নানারবাড়ি দ্বিতীয় টুঙ্গিপাড়ায়”

মহেশখালী – মাতারবাড়ীঃ আসার পূর্বে তিনি অবশ্যই উক্ত অঞ্চলকে উন্নত সমৃদ্ধ করতে, কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প, গভীর সমুদ্র বন্দর, অর্থনৈতিক অঞ্চল, এলএনজি টার্মিনাল, সোনাদিয়া ইক্যু ট্যুরিজম পার্কসহ এই অঞ্চলকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক হাবে তৈরি করতে কাজ চলমান রেখেছেন।

তাছাড়া তিনি কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রেল নিয়ে এসেছেন সমুদ্র পাড়ে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়েছেন, জলবায়ু উদ্বাস্তুদের তিনি দিয়েছেন নতুন ঘরসহ না জানা আরো কত কি! সর্বোপরি বলতে গেলে সারাদেশের ন্যায় তিনি সমগ্র কক্সবাজার জেলাজুড়ে কয়েক লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যান্য সরকারের চেয়ে ওনাকে এগিয়ে রাখছে। এটি অবশ্যই ওনার বৃহৎ কয়েকটি সফলতার একটি অংশ।

এগারো নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশঃ কক্সবাজার জেলাজুড়ে উন্নয়নের একটি ঈদ বসতে যাচ্ছে নভেম্বরের ১১ তারিখ। বিশেষ করে মহেশখালী – মাতারবাড়ীতেই বসবে এই উন্নয়ন মেলা বা ঈদ। সেদিন মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন, কক্সবাজার – চট্টগ্রাম রেলপথের শুভ উদ্বোধন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, খুরুশকুল সেতুর উদ্বোধন সহ আরো নানান প্রকল্প গ্রহণ ও উদ্বোধন হবে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনে মাতারবাড়ী ও মহেশখালী বাসী এক আনন্দময় সময়ে মধ্যে যাচ্ছেন, যে উত্তাপ ছড়িয়েছে কুতুবদিয়া, চকরিয়া, রামু সহ সমগ্র জেলাজুড়ে। চলমান বছরটিতে বর্তমান সরকারের ইতিহাস করা বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প (পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বিমানবন্দর টার্মিনাল, রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ ইত্যাদি) উদ্বোধন হওয়াতে, সমগ্র দেশবাসী সহ অন্যান্য দলের কর্মী সদস্যদের মন-মানসিকতায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে আগামী নির্বাচনে, এক্ষেত্রে উন্নয়ন বান্ধব সরকার হিসেবে আওয়ামী লীগকে প্রধান্যতা দিবে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর আগমনে মহেশখালী ও মাতারবাড়ী বাসীর পক্ষ থেকে কিছু দাবি উত্থাপন করা যায় এগারো নভেম্বরের সমাবেশে।

দ্বীপবাসীর দাবিঃ ১১ নভেম্বর যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আসছেন এই দ্বীপে। তাতে মহেশখালী দ্বীপবাসীর চাওয়া পাওয়ার একটি বিষয় রয়ে যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তো অনেককে অনেককিছু দিয়েছেন – দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে আমরা মহেশখালী বাসীকেও অনেককিছু দিয়েছেন। যার জন্য ওনাকে ধন্যবাদ, আরো অনেক দিয়েও যদি আমাদের কাছে না পৌঁছে তা আক্ষেপের বিষয়। তবে এবার আমরা কি চাইতে পারি? আমাদের আসলে কি প্রয়োজন? সময়ের প্রেক্ষিতে নিম্নে কিছু প্রয়োজনীয় দাবি তুলে ধরা হলো যা এমুহূর্তে বিশেষ করে মাতারবাড়ী তথা সমগ্র মহেশখালী বাসীর প্রয়োজন। (মাতারবাড়ীতেই যেহেতু অধিকাংশ প্রকল্প স্থাপন করা হয়েছে ও হচ্ছে, এবং মাতারবাড়ীতেই আগমন ঘটবে এক্ষেত্রে অত্র এলাকাকে কিছুটা প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে) দাবি গুলো যথাক্রমে উল্লেখ করা হলোঃ

০১/ মহেশখালী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মউক)’র দ্রুত বাস্তবায়ন।

০২/ মহেশখালী – কক্সবাজার টানেল স্থাপন, অথবা মহেশখালী – চৌফলন্ডি সেতু নির্মাণ।

০৩/ মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প সহ মহেশখালীর অন্যান্য প্রকল্পের ক্ষতিপূরণ উত্তোলনে জটিলতা নিরসনে সহায়তা, মাতারবাড়ীতে বন্ধ হওয়া ওয়ারিশদের ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ পুণরায় চালু এবং শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ সহ অন্যান্য ২১ ক্যাটাগরির ক্ষতিপূরণ বাস্তবায়নে জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন।

০৪/ মহেশখালীতে স্থাপিত বা চলমান সকল উন্নয়ন প্রকল্প সমূহে স্থানীয়দের যোগ্যতার বিচারে (বিশেষ কোটায়) স্থায়ী চাকরি এবং সাধারণ শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।

০৫/ দক্ষ শ্রমিক তৈরি করতে মহেশখালীতে ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন।

০৬/ মাতারবাড়ীকে পৌরসভা ঘোষণা করা এবং মাতারবাড়ীতে বন্দর থানার দ্রুত বাস্তবায়ন করা।

০৭/ মাতারবাড়ী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্রুত বাস্তবায়ন।

০৮/ মাতারবাড়ী – ধলঘাটায় সুপার ডাইক বা স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ।

০৯/ মাতারবাড়ী, কালারমারছড়া ইউনিয়নকে খন্ডন করে নতুন ২ টি ইউনিয়ন সৃষ্টি করে শাপলাপুর, ধলঘাট, হোয়ানক, ইউনিয়নকে নিয়ে নতুন উপজেলা গঠন।

০৯/ লবনের আমদানি বন্ধ করে মহেশখালীর প্রান্তিক চাষিদের উৎপাদিত লবনের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ।

১০/ ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মহেশখালীর মিষ্টি পান চাষীদের ক্ষতিপূরণ এবং প্রণোদনা সহায়তা প্রদান।

১১/ মাতারবাড়ী সহ মহেশখালীর স্থানীয় ঠিকাদার, ও অন্যান্য ব্যবসায়ীদের উন্নয়ন প্রকল্প সমূহে ব্যবসায় অগ্রাধিকার প্রদান।

১২/ মহেশখালী – জনতা বাজার সড়কটি চার লেনে উন্নীত করতে হবে।

১৩/ মহেশখালী পৌরসভাকে স্মার্ট পৌরসভায় রুপান্তর করা।

১৪/ মাতারবাড়ীর বেড়িবাঁধ এলাকায় বিলুপ্ত জেলে পরিবার, ধলঘাট থেকে উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকা পরিবার এবং বেড়িবাঁধ এলাকার পরিবারগুলো সরিয়ে নিয়ে তাঁদের দ্রুত পূর্নবাসনের ব্যবস্থা করা।

১৫/ দ্বীপবাসীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ও পর্যটন শিল্প বিকাশে মহেশখালীতে ‘পর্যটন কর্পোরেশন’ স্থাপন।

১৬/ মাতারবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারি করণ সহ অন্যান্য নন এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহকে এমপিও করা।

১৭/ মহেশখালীর উত্তরপ্রান্তে (চালিয়াতলি/ধারাঘোনা) এলাকায় একটি সরকারি কলেজ স্থাপন করা।

১৮/ মহেশখালীর উত্তরপ্রান্তে বগুড়া পাড়া বা চালিয়াতলিতে জায়গায় একটি ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন স্থাপন।

১৯/ মাতারবাড়ী – চালিয়াতলি সড়ক সেনাবাহিনীর দ্বারা স্থায়ী ও টেকসই ভাবে তৈরি করা।

২০/ জনতা বাজার – বদরখালী সেতুর টোল ফ্রী করা।

মাতারবাড়ীতে বর্তমানে বসবাসকারী সকল পরিবার বা স্থানীয়দের কোনপ্রকার উচ্ছেদ না করে উন্নয়ন কার্য চালিয়ে নেওয়ার আশ্বাস প্রদান ও বাস্তবায়ন জরুরি। তাছাড়া মাতারবাড়ী ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরস্থাপন কালে, জমি মালিকদের পক্ষ থেকে মাষ্টার মোহাম্মদ রুহুল আমিন স্যারের দেওয়া বক্তৃতায় আংশিক দাবির প্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যে আশ্বাস সমূহ দিয়েছিলেন। সে আশ্বাস সমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের শহর তৈরিতে আরো বেগবান হওয়ার জোর দাবি।

উপরোক্ত কারণগুলোর যথাযথভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে উপস্থাপন করতে পারলে, বা এই দাবিগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন হলে মহেশখালীবাসী নানান দিকে উপকৃত হবে। আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, অথবা মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি/সম্পাদক যদি বিষয়টি বিশেষ ভাবে বিবেচনা করেন তাহলে তাঁদের বক্তৃতায় দাবি সমূহ বলতে পারেন। অন্যথায় জনগণের পক্ষ থেকে যেকোন একজনকে সুযোগ করে দেওয়া যেতে পারে দাবি সমূহ উত্থাপনের জন্য অথবা সুযোগ করে দিলে আমরা কয়েকজন এই দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রদান করতে পারি।

মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী, কালারমারছড়া ইউনিয়নের যথেষ্ট আত্মসামাজিক এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। মাতারবাড়ীতেও ধীরগতিতে হলেও প্রক্রিয়াধীন আছে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ। অন্যান্য ইউনিয়নে আত্মসামাজিক কাজসমূহ ধীরে এগোচ্ছে। যার কারণে স্থানীয় অবকাঠামোগত বিষয়গুলো উত্থাপন করা হয়নি।

(নোট: অনেক দাবি হয়তো আসেনি, অনেক আবার অতিরক্তি প্রাধান্য পেয়েছে; এমন ধারণা আপনাদের আসলেও ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন)

লেখক: রিয়াদ মোহাম্মদ সাকিব (শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মী)

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত © 2022 dwipnews24.net
Desing & Developed BY ThemeNeed.com
error: Content is protected !!