দ্বীপ নিউজ ২৪ ডেস্ক:

মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়নে ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ মালিকদের ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধ ও মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য বন্ধের লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩০ জুলাই) ধলঘাট প্রকল্প এলাকায় মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ইয়াছিন শিমুলের সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আনোয়ার পারভেজ। তিনি জমির মালিকদের অন্য কারো মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজের কাজ নিজে করতে পরামর্শ দেন। কোন কাজে হয়রানির শিকার হলে সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, প্রয়োজনে তাঁর (এডিসি রাজস্ব’র) সাথে এবং জেলা প্রশাসকের শরণাপন্ন হতে ভূমি মালিকদের অনুরোধ জানান।

এছাড়া তিনি যেকোন প্রকার দুর্নীতি প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করবে মর্মে উল্লেখ করে এ বিষয়ে উপস্থিত সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহেশখালীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা রাবিয়া আক্তার সায়মা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম, ধলঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান, মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম আবু হাইদার সহ স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

এব্যাপারে ধলঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান দ্বীপ নিউজ টোয়েন্টিফোরকে জানায়, আজকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এডিসি (রাজস্ব) মহোদয়ের উপস্থিতিতে ধলঘাটায় এক মতবিনিময় সভা হয়েছে স্থানীয়দের সাথে। এখানে যারা জমির মালিক আছেন এবং যারা উপকারভোগি তাঁরা নিজেদের জমির টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে দালাল চক্রের খপ্পরে না পড়ে মতো পরামর্শ সহ বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এবং জমির মালিকগণ দালালমুক্ত কাজ করলে হবেনা। উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে অফিসও দালালমুক্ত রাখতে বলেছি জমিমালিকদের সুবিধার্তে।

তাছাড়া ওয়ারিশদের মধ্যে বিরোধের যে মামলা হয় ভাই-ভাই সহ আত্মীয়স্বজনের মধ্যে যে মামলা কোর্টে হয়, সে মামলার জটিলতার কারণে অনেককে জমির টাকা পেতে কষ্ট পোহাতে হয়। সে বিষয়ে আমরা মামলা গুলো আপাতত রিসিভ করা বন্ধ রাখতে অনুরোধ জানিয়েছি জেলা প্রশাসনের কাছে। ধলঘাটায় টোটালি যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, প্রকৃত জমি মালিকদের সকলপ্রকার সুযোগসুবিধা দেওয়ার কথা বলেছি। যারা চিৎড়ি চাষ, লবণ চাষ, মৎস্য চাষ করে তাঁদের ক্ষতিপূরণ এবং যাদের ঘরবাড়ী অধিগ্রহণে পড়ে উচ্ছেদ হচ্ছে তাঁদের পূণর্বাসন ও এককালীন অনুদান সহ ১০ প্রকার ক্ষতিপূরণের কথা তোলে ধরে স্থানীয়দের চাকরিতে অগ্রাধিকার ও ব্যবসায় অগ্রাধিকার দিতে দাবি জানিয়েছি।