দ্বীপ নিউজ ডেস্ক:

মহেশখালী উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হতে যাওয়া তিন (কুতুবজোম – হোয়ানক – মাতারবাড়ী) ইউনিয়নগুলোর সাধারণ জনতা নিরাপত্তা হীনতায়। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ইউনিয়নগুলোর সাধারণ জনতা।

আগামী ১১ এপ্রিল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রথম দফায় দেশের ৩৭১ টি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত ১৩-ই মার্চ স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের এক সভায় ৩০৮ ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে, সোমবার ১৫ মার্চ দ্বিতীয় দফায় এক মূলতবি সভায় অবশিষ্ট ৬৩ ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীর চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করেন।

দ্বিতীয় দফার মুলতবি সভায় মহেশখালী উপজেলার ৩ (কুতুবজোমে-শেখ কামাল, হোয়ানকে-মোস্তাফা কামাল, মাতারবাড়ীতে- আবু হায়দার) ইউনিয়নেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।

উক্ত প্রার্থীদের চূড়ান্ত নাম ঘোষণার পর পৃথক পৃথক কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায় ইউপি নির্বাচন হতে যাওয়া এই ইউনিয়ন গুলোতে।

কুতুবজোম: উক্ত ইউনিয়নে দলীয় ভাবে শেখ কামালকে প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করা হলে। দ্বীপ টিভির ফেসবুক সূত্রে জানা যায় কুতুবজোমে নৌকার আনন্দ মিছিল করতে গিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়া হয়ছে ফলে আহতও হয়েছে একজন। এছাড়া, কুতুবজোম চেয়ারম্যান খোকন নৌকা প্রতীক থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তাঁর সমর্থকরা কলাগাছ মিছিলও করে।

হোয়ানক: উক্ত ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মোস্তাফা কামালকে দলীয় প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করলে, নৌকা প্রতীক বঞ্চিত মহেশখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ওয়াজেদ আলী মুরাদের সমর্থকরা বেশ কয়েক দফায় কলাগাছে হাতে নিয়ে মিছিল বের করে এবং মাইক নিয়ে প্রচারণা শুরু করে।

মাতারবাড়ী: উক্ত ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী হিসাবে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয় মাতারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম আবু হায়দারকে। উক্ত ঘোষণার পর আবু হায়দারের সমর্থকদের আনন্দ মিছিল বের হলে স্থানীয় ষ্টেশনে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে সমর্থকদের মধ্যে ছুরিঘাত করে এবং পাল্টাপাল্টি আক্রমণে উত্তর রাজঘাটে ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়া মাতারবাড়ীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক রুহুলের সমর্থকরা কলাগাছ নিয়ে মিছিল বের করে। মগডেইল বাজারে বর্তমান চেয়ারম্যান মাষ্টার মোহাম্মদ উল্লাহ’র সমর্থকরাও কলাগাছ নিয়ে মিছিল করাী কথা শুনা যাচ্ছে।

এই তিন ইউনিয়নে কলাগাছ নিয়ে মিছিল বের করা সাধারণ জনতা জানায়, অযোগ্য, জনসমর্থনহীন ব্যক্তিদের দলীয় প্রতীক দেওয়ার ফলে ইউনিয়ন গুলোতে এধরনের মিছিল বের করা হয়েছে।

সর্বোপরি এই তিন ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন শ্রেণীর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বড় বড় দূর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এবং তাঁরা এটাও জানান, বিরোধী দল স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতেছেনা। সে হিসাবে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রত্যেকটি ইউনিয়ন থেকে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের তোলে আনতে প্রতীক দেওয়ার পরও উন্মুক্ত নির্বাচন দিতে পারে যেখানে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীদের ছাড় দিতে পারেন বলে মন্তব্য করেন।

সে হিসাবে এই ইউনিয়নগুলোতে দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি দলীয় অনেক নেতা বিদ্রোহী হিসাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে। যার কারণে ছোটখাটো বিভিন্ন তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে ইউনিয়ন গুলোতে।

এই সম্ভবনাময় দূর্ঘটনা গুলো না ঘটার আগে মহেশখালীর ইউনিয়ন গুলোর সাধারণ মানুষ উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ (কুতুবজোম, হোয়ানক, মাতারবাড়ী) তে নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের দাবি তুলেছেন।