মিছবাহ উদ্দীন আরজু, (নিজেস্ব প্রতিবেদক)::

১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে আপমর জনসাধারণ মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিপাগল বাঙালিরা। মুক্তির নেশায় বিভোর ছিলেন তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী, বৃদ্ধসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’ এই ডাকে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন গাজী আবদুস ছাত্তার। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের অর্ধশত বছর পেরিয়ে গেলেও কালের পরিক্রমায় এখনো তার নাম নেই বীরত্বগাথা সেই মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় গাজী আব্দুস সাত্তারের। (“তার পিতার নাম আব্দুল হক, তিনি ফকিরাঘোনা, নোনাছড়ি, কালারমারছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। থানা মহেশখালী, জেলা কক্সবাজার। তিনি গরীব ও অসুস্থ। কিন্তু তিনি দাবি করেন সে মুক্তিযোদ্ধা! মৃত্যু বরণ করার আগে মুক্তিযোদ্ধার খেতাব নিয়ে মরতে চাই”) এ কারণে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারটি হতাশ। তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তার পরিবার ঘুরেছে কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে। সাবেক মুক্তিযোদ্ধা জেলা কমান্ডার রমজান আলী বাহাদুরসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধাই তার পক্ষে সুপারিশ করলেও তালিকায় নাম ওঠাতে ব্যর্থ হন এই মুক্তিযোদ্ধা। স্ত্রী-সন্তান রেখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অদম্য সাহস বুকে বেঁধে যুদ্ধ করেছিলেন গাজী আবদুস ছাত্তার। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কক্সবাজার জেলা ১ নং সেক্টরের অধীনে ছিলেন তিনি। তিনি বিভাগীয় কমান্ডার মেজর রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম) ও ১১২ নং এর প্লাটুন কমান্ডার পুলিন বিহারী শর্মার নেতৃত্বে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় মুক্তিযোদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহন করেন। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধের সময় তিনি ১১২ নং প্লাটুন কমান্ডার সন্দীপের জনাব সামশু ও পুলিন বিহারী শর্মার অধীনে প্রশিক্ষণ গ্রহন করে ভারতীয় অস্ত্র (রাইফেল) দিয়ে যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহন করেন। যুদ্ধ শেষে তিনি এম,এন,এ আবু ছালেহ সাহেবের নিকট ভারতীয় অস্ত্র (রাইফেল) সমর্পন করেন। এদিকে ২০১৪ সালের ১৪ই মার্চ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কক্সবাজার জেলা কমান্ডের কমান্ডার রমজান আলী বাহাদুরের স্বাক্ষরিত একটি স্মারকে তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে গাজী আবদুস ছাত্তার বাংলাদেশ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে পাকসেনাদের বিরুদ্ধে প্লাটুন কমান্ডার পুলিন বিহারী শর্মার অধীনে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযোদ্ধা গাজী আবদুস ছাত্তারের ভাইপো জিএম হান্নান বলেন, ‘আমার চাচা মুক্তিযুদ্ধে নিজের জীবন বাজী রেখে পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধের সময় আমার চাচা জীবন বাজী রেখে যুদ্ধ করার পরও এখনও পর্যন্ত তিনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাইনি। একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও আমার চাচা মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নেই। বিষয়টির জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’ অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কক্সবাজার জেলা ইউনিটের এক সাবেক কমান্ডার বলেন, ‘উপজেলা কমান্ডার ওনাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন। আমি ও স্মারকলিপিতে প্রতিস্বাক্ষর দিয়েছি।’ তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধের সময় অনেকে দালালি করেছে, দালালি করার পরও অনেকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পায়ছে। গাজী আবদুস ছাত্তার এখনও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাইনি। শুধু গাজী আবদুস ছাত্তার নয়, অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকায় নেই। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ কক্সবাজার জেলা কমিটির সভাপতি শরিফুল ইসলাম রনি বলেন, গাজী আবদুস ছাত্তারের বিষয়ে আমরা খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পেরেছি যে, তিনি আসলেই একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, কিন্তু সময়ের পরিক্রমা ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস আদৌ তিনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। আমরা তার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাইয়ে দেওয়ার জন্য যতটুকু সার্বিক সহযোগিতা দরকার আমরা করবো। এছাড়া তাঁর কাছে ডকুমেন্ট হিসাবে আছে ওসমানী সনদ,১নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ড এর প্রত্যয়নপত্র, জেলা ও উপজেলা কমান্ড এর প্রত্যয়নপএ, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্মারকলিপি,বর্তমান ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এর প্রত্যয়নপত্র এবং মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপএ জমাদানের প্রাপ্তিস্বীকার পত্র। এছাড়াও তিনি মুক্তিযোদ্ধের সময় ইউনুচ খালী নাছির উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্বাচিত ছাত্রলীগের জিএস সংগঠক ছিলেন।