দ্বীপ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডেস্ক:

মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ট্রাজেডির এক বছর পূর্ণ হলো গতকাল। ২০২১ সালের ২২ জানুয়ারি দিনটি ছিল শুক্রবার, মাতারবাড়ী আজিজুল উলুম মাদ্রাসার বার্ষিক সভার দ্বিতীয় দিন। মাতারবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সভা উপলক্ষে বসে খেলনা, খাবার, বিনোদন সহ হরেক রকমের দোকানপাট। সেদিন সকাল ১০ টায় মাঠের দক্ষিণ পশ্চিম কোণে বেলুন ফুলানোর সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের বিকট শব্দে ছুটাছুটি করতে থাকে মাঠবর্তী লোকজন। কারো হাত, কারো পা পড়ে থাকে এদিক-সেদিকে আবার কারো ঝলসানো শরীর গড়াগড়ি করতে থাকে মাঠে। মুহূর্তেই মাতারবাড়ীর আকাশে নেমে আসে শোকের ছায়া।

সেদিন বেলুনের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মাতারবাড়ীর স্থানীয় ৫ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ মিয়াজির পাড়া গ্রামের আলমের পুত্র ১২ বছর বয়সের আহসান উল্লাহ’র ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়। একই ইউনিয়নের বলির পাড়ার আজিজুর রহমানের পুত্র এরশাদুল হক (১১) হাসপাতালে নেওয়ার পথে ও বেলুন বিক্রেতা চকরিয়া উপজেলার জসিম উদ্দিন (৪৮) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।

আহত হয়েছিলেন- মাতারবাড়ির পাশের শাপলাপুর ইউনিয়নের জেমঘাট এলাকার কবির আহমদের ১৬ বছর বয়সী ছেলে, একই ইউনিয়নের সাইটমারা এলাকার নুরুল হকের ছেলে আক্কাস (১৮), মাতারবাড়ির উত্তর রাজঘাট এলাকার কাইছারুল ইসলামের ছেলে জিহাদুল ইসলাম আবদুল্লাহ (১২), নলবিলার নুর মোহাম্মদের ছেলে মারুফ (১২), সিকদার পাড়ার ফরিদুল আলমের ছেলে সাদেকুল ইসলাম রাহাত (১৩), মগডেইলের আবদুল মান্নানের ছেলে মো. নুরী (১৩), সিকদারপাড়ার আবদুল মোনাফের ছেলে মো. তুহিন (১৪) ও বদন আলীর ছেলে জয়নাল আবেদীন (১২)।

আহতদের অনেককে চট্টগ্রাম মেডিকেল এবং শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটি ভর্তি করা হয়েছিলো। তাঁদের অনেকে আজীবনের জন্য বরণ করে নেয় পঙ্গুত্বকে।

ঘটনার ঘন্টাদুয়েকের মধ্যে উপজেলা থেকে ঘটনাস্থলে আসে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট, মহেশখালী থানা সহ সংশ্লিষ্টরা।

নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করে কক্সবাজার – ২ আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক নগদ অর্থ প্রদান করেন এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। সেসময় নগদ দিয়ে আরো সহযোগীতা করেন, সাবেক চেয়ারম্যান মাষ্টার মোহাম্মদ উল্লাহ, মাতারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম ছমি উদ্দিন।

তাঁর কিছুদিন পর মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয় এছাড়া করোনা কালে সদ্য বিদায়ী মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজ রহমান নিজে এসে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী তোলে দেয় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোর হাতে।

তবে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার সমূহের সর্বশেষ অবস্থা কেমন? তা জানতে বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে জানায়, সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আমাদের সন্তান আহত হওয়ার পর প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধি যে অনুদান দেয় তাতেই শেষ। এরপর থেকে কোন প্রকার যোগাযোগ করেনি কেউ, হতাহতের কি অবস্থা জানতে চায়নি কেউ, আজ ১ বছর পূর্ণ হলেও সংশ্লিষ্ট কেউ মনে রাখেনি আমাদের। যা খুবই দুঃখজনক।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলো আরো জানায়, উক্ত সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ক্ষতির সম্মুখীন পরিবার ও যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে তাঁদের উপজেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে সরকারের পক্ষ থেকে সাহায্য সহযোগিতা করা প্রয়োজন।