আ ন ম হাসান: মহেশখালী

মহেশখালীর বড় মহেশখালী ইউনিয়নের পশ্চিম জাগিরা ঘোনা গ্রামে প্রতিপক্ষের বসতবাড়ি দখলের নিমিত্তে চলাচলের রাস্তা টিন দিয়ে ঘেরাও করে বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে নগদ ৩ লক্ষ টাকা লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

২৫ মার্চ সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা যায়, বড় মহেশখালী ইউনিয়নে পশ্চিম জাগিরা ঘোনা গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ নেচার ‘র স্ত্রী আক্তার বেগম পৈত্রিক মিরাজ সূত্রে পাওয়া বি এস খতিয়ান নং- ৭৬ বসতভিটা ১৯৯৯ ইংরেজি থেকে দীর্ঘ ২২ বছর বসবাস করে আসছিলেন।

তাদের দীর্ঘ ২২ বছরের বসতভিটা দখলের নিমিত্তে প্রতিবেশী মৃত্যু কাদের বকসুর পুত্র রফিক বাহিনীর প্রধান রফিকের নেতৃত্বে আব্দু সোবহান প্রকাশ বাবুল’র স্ত্রী শাকেরা বেগম (৩৫), আব্দু সোবহান’র মেয়ে তাসলিমা (১৮) সহ দলবল নিয়ে বিগত ২৪ মার্চ আক্তার বেগমের বসতবাড়ির রাস্তা টিন দিয়ে ঘিরে দিয়ে বন্ধ করে দেয়।

এ নিয়ে আক্তার বেগম বাদি হয়ে মহেশখালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে মহেশখালী থানার এসআই নুরুন্নবী টিপু’র নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চলাচলের রাস্তা থেকে টিন সরিয়ে নিয়ে চলাচলের উপযোগী করে দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। থানায় অভিযোগ আমলে নিয়ে আগামীকাল ২৬ মার্চ (আজ) উভয় পক্ষকে থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। থানায় হাজিরার আগের দিন ২৫ মার্চ অভিযোগ দায়েরে ক্ষিপ্ত হয়ে পরবর্তীতে মৃত্যু কাদের বকসুর ছেলে রফিক বাহিনীর প্রধান রফিকের নেতৃত্বে শাকেরা বেগম ও তাসলিমা আক্তার সহ দলবল নিয়ে আক্তার বেগম’র বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরে দরজা-জানালা খাট, সু-কেস, আলমারি সহ আসবাবপত্র ভাংচুর করে নগদ ৩ লক্ষ টাকা ও স্বর্ণালংকার এবং একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল লুট করে নিয়ে যায়।

তাদের হামলায় বসতবাড়ির মালিক আক্তার বেগম ও তার সন্তান ইমন হায়দার শাওন কে গুরুতর আহত করেন। স্হানীয়রা উদ্ধার করে তাদের মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসেন।

আক্তার বেগমের স্বামী মোহাম্মদ নেচার বলেন, আমি ব্যবসয়িক কাজে বাইরে থাকার সুবাদে রফিক বাহিনীর প্রধান রফিকের নেতৃত্ব একদল সন্ত্রাসী আমার স্ত্রীর পৈত্রিক মিরাজ সূত্রে পাওয়া ২২ বছরের ভোগদখলিয় বসতভাটি জবরদখলের উদ্দেশ্য হামলা চালিয়ে বসতবাড়ি ভাংচুর করে নগদ ৩ লক্ষ টাকা ও স্বর্ণালংকার সহ হাতিয়ে নেয় এবং ঘরের বিভিন্ন দরজা-জানালা সহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করে।

স্হানীয় সমাজ কমিটির সভাপতি দলিল মিয়া বলেন- আক্তার বেগম’র বসতবাড়ির চলাচলের রাস্তা টিন দিয়ে ঘিরে দেওয়ার খবর পেয়ে আমি স্হানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চকিদার আলমগীর কে পাঠিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহবান জানায়- তারা আমার কথা না রেখে বসতবাড়ি ভাংচুর করে নগদ টাকা সহ স্বর্ণালংকার লুটপাট করে নেয়।

ভুক্তভোগী আক্তার বেগম জানান- আমার পৈত্রিক মিরাজ সূত্রে পাওয়া বি এস খতিয়ান -দাগের বসতভিটা প্রতিবেশী রফিক বাহিনীর প্রধান রফিকের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলের পায়তারা করে, এনিয়ে বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি অভিযোগ দায়ের করি। বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এনায়েত উল্লাহ বাবুল বিষয় টি মিমাংসা করে দেয়। কিন্তু প্রতিপক্ষ দেশের আইনকানুন অমান্য করে বারবার আমার বসতভিটা দখলের পায়তারা করে যাচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ মার্চ চলাচলের রাস্তা টিন দিয়ে ঘিরে দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। আমি থানায় অভিযোগ দায়ের করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালিয়ে বসতবাড়ি ভাংচুর করে নগদ টাকা সহ স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। তাদের হামলায় আমি ও আমার ছেলে শাওন গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছি। আমি আমার বসতভিটা দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করে শান্তিপূর্ণ বসবাসের জন্য স্হানীয় জনপ্রতিনিধি সহ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।