1. dwipnews24.info@gmail.com : Dwip News 24 :
  2. editor@dwipnews24.com : Newsroom :
মহেশখালীতে উপকারভোগীর টাকায় নির্মিত হচ্ছে মুজিববর্ষের ঘর! | দ্বীপ নিউজ
December 2, 2022, 11:47 pm
শিরোনাম :
মহেশখালীতে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু মহেশখালী পৌরসভায় ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহীর শরীরের নিম্নাংশ বিচ্ছিন্ন মহেশখালী হাসপাতালে চালু হল নবজাতক পরিচর্যা কেন্দ্র মহেশখালীতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হবে ‘আন্তর্জাতিক ইসলামী কনফারেন্স’ চিহ্নিত বালিখেকোদের সাথে বিট অফিসারের সখ্যতা, বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ বালি উত্তোলন আপনার সাহায্যে বাঁচাতে পারে  কোরআনে হাফেজ জামাল উদ্দিন’র জীবন অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, পেশা পরিবর্তনের পথে কোহেলিয়া নদীর জেলেরা মহেশখালীতে উপকারভোগীর টাকায় নির্মিত হচ্ছে মুজিববর্ষের ঘর! মহেশখালী থানা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ২৩ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী আটক কালারমারছড়া ও ছোট মহেশখালীতে ঘরে আগুন লেগে এক শিশুর মৃত্যু, পার্শ্ববর্তী ঘরে ব্যাপক লুটপাট

মহেশখালীতে উপকারভোগীর টাকায় নির্মিত হচ্ছে মুজিববর্ষের ঘর!

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৭, ২০২২
  • 18 ভিউ

নিউজ ডেস্ক:

মহেশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মুজিববর্ষের ঘর তৈরিতে নানান অনিয়ম, কাজে গাফিলতি ও উপকারভোগীদের কাছে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে নগদ অর্থ আদায় এবং নির্মাণ সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে এমন গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়- বরাদ্দকৃত নির্মাণ ব্যায়ও বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র থেকে। বলা হচ্ছে অর্থ সংকটের কথাও। ফলে হতদরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষগুলোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া এই উপহারের প্রকৃত লক্ষ্য উদ্দেশ্য ব্যহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

অনুসন্ধানে মুজিববর্ষের ঘর তৈরির পেছনে সংশ্লিষ্টদের অনিয়ম সম্পর্কে স্পর্শকাতর তথ্য উঠে আসে। কালারমারছড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সোনার পাড়া, ৭নং ওয়ার্ডের ছামিরাঘোনা ও অফিস পাড়ায় নির্মাণাধীন মুজিববর্ষের এসব ঘর তৈরিতে কাজে গাফিলতি সহ উপকারভোগীদের বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে নগদ অর্থ ও নির্মাণ সামগ্রী আদায় করার মতো নানান অনিয়মের অভিযোগ ওঠে এসেছে।

সুত্র মতে, মুজিববর্ষের উপহার হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া এসব ঘর তৈরিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণে প্রযোজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উক্ত বরাদ্দে দিয়েই ঘর সমূহ নির্মাণ সমাপ্ত করে উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর উপযোগী করে তোলা যায়। এছাড়াও ঘর নির্মাণ পরবর্তি বাছাইকৃত উপকারভোগীদের নিকট হস্তান্তর পর্যন্ত সমগ্র কাজটি তত্বাবধান করবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ- মুজিববর্ষের ঘর নির্মাণে ইউএনও’র নিয়োজিত লোকজন ও মেস্ত্রীরা কাজে ব্যায় বৃদ্ধি অজুহাতে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যাবার ভয় দেখিয়ে উপকারভোগীদের নিকট থেকে অনেকটাই জোরপূর্বক অর্থ ও নির্মাণ সামগ্রী আদায় করে নিচ্ছে। যেসব দিয়ে পরবর্তী কাজ চালিয়ে নিচ্ছে বলেও জানা গেছে। সরেজমিন গেলে অভিযোগের সত্যতাও মিলে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক উপকারভোগী জানান, ‌‌”দিনমজুরি কাজ করে আমরা অত্যন্ত কষ্টে পরিবার চালাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া উপহার হিসাবে ঘর পেয়েছি কয়েক মাস আগে। এসব ঘর তৈরির ক্ষেত্রে গিয়ে নির্মাণ সামগ্রী নির্ধারিত জমিতে আনার সময় সংশ্লিষ্টরা অনেক দূরে মালামাল সমূহ ফেলে রাখে।পরে আমাদের নিজেদের টাকায় আলাদা শ্রমিক দিয়ে, এসব নির্মাণ সামগ্রী ঘর তৈরির স্থলে আনতে হয়। তাছাড়া প্রতিদিন ঘর তৈরিতে কর্মরত মেস্ত্রীদের একবেলা করে খাবার ও কয়েকবার নাস্তা দিতে হয়। সরকার আমাদের ঘর উপহার দেওয়ায়, আমাদের কষ্ট হলেও কোন আক্ষেপ না রেখে খুশিতে এসব খরচ বহন করি। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে নির্মাণ কাজ চলাকালে মেস্ত্রী সহ ইউএনওর নিয়োজিত লোকজন আমাদের বলে, সরকার নাকি একটি ঘরের জন্য ৫০ ব্যাগ সিমেন্ট বরাদ্দ রেখেছে। বরাদ্দের এই সিমেন্ট নাকি অল্প কাজ করতে না করতেই শেষ হয়ে গেছে। তাই তারা আর কাজ চালাতে পারবে না। সেজন্য বাদবাকি প্রয়োজনীয় সিমেন্ট আমাদের দিতে হবে। আমরা নিজেদের অভাবের কথা বলার পরও শুনেননি তাঁরা। এখন শত কষ্ট হলেও আমরা বিভিন্ন ব্যাক্তি হতে ঋণ নিয়ে ঘরের জন্য সিমেন্ট কিনে কাজে নিয়োজিত মেস্ত্রীদের কাছে হস্তান্তর করেছি। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সিমেন্ট সরবরাহ করতে জোর তাগাদা দেন সংশ্লিষ্টরা।”

একই ভাবে ওই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড সোনা পাড়ায় নির্মাণাধীন মুজিববর্ষের ঘর তৈরিতেও অসংখ্য গাফিলতির কথা অভিযোগের সুরে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁরা আরও জানান – প্রধান সড়কের পাশ ঘেঁষে, মাটি ভরাট না করে সড়কের উচ্চতার লেভেল থেকে প্রায় সাড়ে তিন ফুট নিচে ঘর তৈরি করা হচ্ছে। বর্ষাকালে এসব ঘর ডুবে যাবে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন উপকারভোগীরা। এছাড়া ঘর তৈরিতে কাঁচামাল ও লোহার রড ব্যবহারে কোন নিয়ম মানা হচ্ছেনা বলেও জানান তারা।

এব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি রেজাউল করিম বলেন- অসহায় মানুষগুলোর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বিশেষ উপহার এবং অবদানগুলো সঠিক ভাবে পৌঁছানো না গেলে এটি খারাপ নজির হয়ে থাকবে। এখানে অনিয়ম দুর্নীতি কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টি আমরা অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সাথেও আলাপ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলবো।

এবিষয়ে কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ জানান, আমার জানামতে ইউএনও’র লোকজন অনিয়ম করেনি। আমি উপকারভোগীদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম তাদের কাছে কেউ এই ঘর নির্মাণ বাবদ কোনো টাকা পয়সা দাবী করেছে কীনা। উপস্থিত উপকারভোগীদের কেউ আমাকে তার কাজের ব্যাপারে কিংবা টাকা পয়সা দাবী করেছে এমন অভিযোগ করেনি। তবুও কেউ যদি এমন অভিযোগ করে থাকে তাহলে আমরা সেটা দেখবো।

মুজিববর্ষের ঘর তৈরিতে অনিয়মের বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াছিনের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ”আমার কাছে কেউ অর্থ আদায় করছে এ ধরনের কোন অভিযোগ আসেনি এখনো। আর মুজিব বর্ষের ঘর সারাদেশে সরাসরি ইউএনওদের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হচ্ছে। এ কাজে কোন ঠিকাদার নিযুক্ত হয়নি। বরাদ্দের চেয়েও অতিরিক্ত নির্মাণ ব্যায় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও জানান- অতিরিক্ত যে খরচ লাগছে এটি এমপি মহোদয়, স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ বিভিন্নভাবে যোগাড় করে দিচ্ছেন। কিন্তু উপকারভোগীদের কাছ থেকে এক টাকাও নেওয়া হচ্ছেনা।

নিয়োজিত লোকজন কর্তৃক নগদ অর্থ ও নির্মাণ সামগ্রী আদায় প্রসঙ্গে তিনি জানান, টাকা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ কোন অভিযোগ থাকে, তাহলে আমাকে বা আমার উর্ধতন কর্তৃপক্ষ যাকে ইচ্ছা দিতে পারেন। আমরা অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী বা ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে বর্তমান সরকারের গৃহীত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশের প্রায় ৯ লাখ ঘর ও ভূমিহীন পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। গত বছর ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি সারাদেশের গৃহ ও ভূমিহীনদের প্রথম ধাপে ৭০ হাজার ঘর হস্তান্তর করে, কার্যক্রমটির শুভ উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় মুজিববর্ষে গৃহহীন-ভূমিহীনদের ঘর উপহার দেওয়া বাংলাদেশের মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় উৎসব বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

সরকার গৃহীত উক্ত কর্মসূচির অংশ হিসেবে, মহেশখালী উপজেলার গৃহহীন ও ভূমিহীনরাও উপহার হিসাবে পাচ্ছে মুজিববর্ষের ঘর। যাদের ভূমি আছে গৃহ নেই, এছাড়া ভূমি ও গৃহহীন তাঁদের অনেক’কে পর্যায়ক্রমে দুই রুম, এক রান্নাঘর, এক শৌচাগার ও একটি খোলা একটি বারান্দা নিয়ে সেমিপাকা একটি করে ঘর উপহার দিচ্ছে সরকার। যেখানে প্রতিটি ঘর তৈরিতে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। কিন্তু মহেশখালীর ইউএনও’র মতে- বাস্তবে এই ঘরগুলোর নির্মাণ ব্যয় প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকার কাছাকাছি যাচ্ছে মহেশখালীতে। মহেশখালী দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় এবং বর্তমানে ইট সহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রীর দাম অনেক বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। তবে কি নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ইউএনওর নাম ভাঙ্গিয়ে উপকারভোগীদের নিকট হতে নগদ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে অদৃশ্য চক্র এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত © 2022 dwipnews24.net
Desing & Developed BY ThemeNeed.com
error: Content is protected !!