তারেক আজিজ ” বিশেষ প্রতিনিধি:
উপকূলীয় অঞ্চল কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলাটি একমাত্র পাহাড় সমৃদ্ধ দ্বীপ বটে।
এ দ্বীপে যেমন উঁচু উঁচু পাহাড়! তেমনি রয়েছে চারদিকে সাগর ও নদী। দ্বীপের অধিকাংশ মানুষ খেটে খাওয়া কর্মের উপর নির্ভরশীল।

দ্বীপটিতে বর্ষা শুরু হতে না হতে বৃষ্টির পানি প্লাবিত হয়ে ব্যাপকহারে ভেংগে যায়, প্রধান সড়ক, কালভার্টসহ নিম্নাঞ্চলের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ী। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় প্রাকৃতিক নিয়মে চলমান মৌসুমের টানা প্রবল বর্ষণে উপজেলার পৌরসভা,
বড় মহেশখালী, হোয়ানক, কুতুবজুম, শাপলাপুর, ছোট মহেশখালী, কালারমারছড়া, ধলঘাটা ও মাতারবাড়ী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অধিকাংশ মানুষ বাসস্থান ছেড়ে পরিবার পরিজন ও গবাদিপশুসহ অন্যস্থানে অাশ্রয় নিয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মূখীনে পড়ে বসবাসরত মানুষ। এমনিতে করোনায় চারদিকে অভাবে অার্তনাদ! ঠিক তখনই বৃষ্টিতে প্লাবিত ঘরবাড়ী।

মহেশখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুব রোকন জানান, প্রবল বর্ষণের পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়ী ঘর ডুবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শাপলাপুরের মহিলা মেম্বার মিনুযারা জানান বিরতিহীন বৃষ্টিতে পাহাড়ী ঢলে শাপলাপুর সড়কে মিঠাছড়ির কালভার্ট ধ্বসে যান চলাচল বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দূর্ভোগে পড়েছে পথচারীরা।

হোয়ানকের সাবেক মহিলা মেম্বার ফরিদা ইয়াছমিন বলেন মুষলধারে বৃষ্টি কারণে জনতা বাজার টু গোরকঘাটা কালারমারছড়া হয়ে প্রধান সড়ক পদ্মপুকুর সংলগ্ন বিকল্প রাস্তা ভেঙ্গে যান চলাচলের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। অতপর ইউএনও স্যার স্বশরীরে পরিদর্শনে এসে যান চলাচলে ব্যবস্থা করেন।

ধলঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম জানান মহেশখালীর অারেক বিচ্ছিন্ন দ্বীপটি নানান মূখী নদী ও সাগরের তুমুল ঢেউয়ে সাথে যুদ্ধে করে যাচ্ছে। এ ইউনিয়নের বসবাসরত মানুষ সবসময় মন ছোট করে থাকে। কোন সময় অাবার ভয়াল ৯১ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়ে। এ দ্বীপ রক্ষার স্বার্থে অামার নিজ হাতে রূপন করেছি হাজার হাজার ঝাউগাছ। কিন্তু দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় সম্প্রতি সময়ে কিছু দুষ্কৃতকারীরা কি সুন্দর ঝাউ বাগান নিধন করে এ দ্বীপ ও পরিবেশকে বিপর্যস্ত করেছে। বাস্তবমুখী বর্ষা মৌসুম অাসলে এদতাঞ্চলে বসবাসকৃত মানুষ সবসময় পানির সাথে যুদ্ধে করাটা জীবনের একটি অংশ। এমনকি স্বাভাবিক ঘুম হয় না।

সিঙ্গাপুর ও দ্বিতীয় টুঙ্গিপাড়া খ্যাত মাতারবাড়ীর দক্ষিণ সাইরার ডেইল এলাকায় পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রবল বৃষ্টির পানি প্লাবিত নাছির উদ্দীন, নুর বক্স, রবি চাঁন, রিদুয়ান, জাকের হোসেন, নাছির উদ্দিন, নাজেম উদ্দিন, মৃত খুইল্যা মিয়ার পরিবার নছু অারাসহ প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ী। অনেকেই কোথাও মাথাগোঁজা ঠাই নেই বলে জানা যায়। এছাড়াও পানির ডুবে অাছে সিএনজি ষ্টেশন সংলগ্ন এলাকাসহ নিম্নাঞ্চল।

এলাকার সুশীল ও শিক্ষিত সমাজের দাবী মাতারবাড়ীতে বৃহৎ প্রকল্প কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মিত হওয়ার পরে এভাবে প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতায় পরিনত সৃষ্টি হচ্ছে এবং অনুভব করা যায় মাছের প্রজেক্টের মতো। তারা অারো বলেন, প্রকল্পের কাজ শুরুর অাগে পানি নিষ্কাশনের কয়েকটি স্লুইস গেট ছিলো। পূর্বদিকে টিয়াকাটি, সৌয়াখালী, রাঙ্গাখালী এবং পশ্চিমদিকে উলাখালী, অানিছের দিয়া ও মগবারি নামের স্থানে। কিন্তু সবকয়টি মিলে একটি রাঙ্গাখালী স্লুইস গেইটের দেখা মিলে। এমনকি আকতার হোছাইনসহ অনেকেই বলেন, মানবসৃষ্ট দূর্যোগের ফলাফল জলাবদ্ধতা। এতে পানিবন্দি হয়ে অাছে শতশত ঘরবাড়ি। বৃষ্টি হলেই প্রকল্পের উত্তর পার্শ্ব ও বাংলা ক্যাম্পের পানিতে প্লাবিত হয়েছে পুরো অঞ্চলসহ ছোট খাটো অনেক ব্যক্তি মালিকারা বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজেক্ট।এ দুঃখ থেকে পরিত্রাণ পেতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তাক্ষেপ ও সহায়তা কামনা করেন।

ছোট মহেশখালীর মোহাম্মদ পুর (তেলি পাড়া)
প্রবল বর্ষণের পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়ী ঘর ডুবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্লাবিত নিম্নাঞ্চলে বসবাসরত মানুষের খবর নিয়েছেন ছোট মহেশখালী ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আলম এবং দ্রুত জলাবদ্ধতা রোধ করতে উর্ধ্বতন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন বলে জানান।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জামিরুল ইসলাম জানান, প্রবল বর্ষণে বিধ্বস্ত সড়ক, কালভার্ট ও প্লাবিত নিম্নাঞ্চলাদি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।