মহেশখালী  প্রতিনিধি

মহেশখালী পৌরসভার ০৯ নং ওয়ার্ডের চরপাড়া এলাকার সৌদি প্রবাসী আব্দু ছালাম ও তার স্ত্রী কামরুন্নাহারের মধ্যে পারিবারিক বিরোধের জের, বর্তমানে মানবতার জীবন কাটাচ্ছেন তাদের শিশু সন্তান আবদুল আল-রায়হান (৬) ও সুমাইয়া ইসলাম রূপা (৩)। এমনকি বর্তমানে লেখাপড়াও বন্ধ হয়ে গেছে।

মহেশখালী উপজেলার অন্তর্গত মহেশখালী পৌরসভার ০৯ নং ওয়ার্ডের চরপাড়া এলাকার সৌদি প্রবাসী আব্দু সালাম ও তাঁর স্ত্রী কামরুন্নাহারের মধ্যে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে বর্তমানে মানবতার জীবন কাটাচ্ছেন তাদের শিশু সন্তান আবদুল আল রায়হান (৬) ও টুমাইয়া ইসলাম রূপা (৩)।

এমনকি বর্তমানে তাদের শিশু সন্তান আবদুল আল রায়হান (৬) এর লেখাপড়াও বন্ধ হয়েগেছে। খাদ্য সংখটে পার্শ্ববর্তী ডুবা থেকে শাক সংগ্রহ করে পেটের ক্ষুধা নিবারণ করছে। তাঁদের সংসারে এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে আবদুল আল রায়হান (৬) চরপাড়াস্থ নুরানি মাদ্রাসা পড়তো, আর এক মেয়ে এখনো ছোট।

সম্প্রতিক কোভিড-১৯ করোনাকালে সরকারী বেসরকারি কোন ধরনের সহায়তাও তিনি পাননি
এ পর্যন্ত। সৌদি প্রবাসী আব্দু সালাম স্ত্রী কামরুন্নাহার জন-প্রতিনিধি সহ সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আকুল আবেদন জানান যে, তার এই সংকটময় মুহুর্তে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার।

সৌদি প্রবাসী আবদুসালাম ও তার স্ত্রী কামরুন্নাহার এর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ। ইসলামী শরীয়তের বিধি বিধানকে তোয়াক্কা না করে ডিভোর্সী স্ত্রী আর বৈধ-স্ত্রী নিয়ে একই ঘরে বসবাসকারী মহেশখালী পৌরসভাস্থ ০৯ নং ওয়ার্ডের গোরকঘাটা চরপাড়া এলাকার জনৈক মৃত হাছন আলীর পুত্র সৌদি প্রবাসী আব্দু ছালাম বিগত আট বছর পূর্বে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে পরবর্তীতে অনেক ড্রামা সিরিয়ালের জন্ম দিয়ে কামরুন্নাহার নামে জনৈক মহিলাকে বিয়ে করে ঘরে তুলেন।

বিগত ৬/৭ বছর তাঁদের সংসার সুখে শান্তিতে চলে আসছিল, আব্দু সালাম ও কামরুন্নাহারের সংসারে ফুটফোটে দুটি সন্তান রয়েছে।

কামরুন্নাহারের ভাষ্যমতে, বিয়ের ৫/৬ বছর তাঁদের সংসারে সুখ থাকলেও সামপ্রতিক সময়ে প্রবাসী আব্দু সালামের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে আগের ডিভোর্সী স্ত্রীর উপর। শুরু হয় আগের প্রেম লিলা।

কৌশলে বর্তমান বৈধ স্ত্রী কামরুন নাহারকে বাড়িঘর ছাড়া করার জন্য অ-মানবিক নির্যাতন সহ আগের ডিভোর্সী স্ত্রীকে ইসলামী শরীয়তের বিধি বিধান কে তোয়াক্কা না করে নিজের ঘরে তুলে, বসত ঘরের একটি কক্ষ দখলে আছে।

সেই থেকে কামরুন্নাহার ও তার ছেলে মেয়েদের জীবনে নেমে আসে শারিরিক ও অমানুষিক নির্যাতনের খড়গ। আগের পরিবারের সন্তানরা বড় হওয়ায় জনৈক মহিলা তার সন্তান সহ মিলে কামরুন্নাহারের উপর অ-মানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে। বর্তমানে কামরুন্নাহার তাঁর ছেলে মেয়েদের নিয়ে মানবেতর জীবন ও নিরাপত্তা হীনতায় রয়েছে।

জনৈক প্রবাসী সালাম, ডিভোর্সী স্ত্রী আর তার সন্তানদের ইন্ধনে বর্তমান স্ত্রী কামরুন্নাহারের ভরন পোষন দেওয়া সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেই বলে তিনি অভিযোগ করেন ৷

কামরুন্নাহারের বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলোঃ আগের স্ত্রীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় অনেক দেন দরবার শেষে প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে ২০১৩ সালে জনৈক আব্দু সালাম ভালোবেসে বিয়ে করেন কুতুবজোম এলাকার কামরুন্নাহার কে। উভয় পরিবারের সম্মতিতে ঢাকঢোল পিটিয়ে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তাদের সংসার আলোকিত করে জন্ম নেই এক ছেলে এক কন্যা সন্তান।

সংসারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে অনেকটা বিপর্যস্ত সালামকে এতিম কামরুন ন্নাহার নিজ পৈতৃক ভিটে গাছপালা বিক্রি করে বিদেশ পাড়ি জমাতে অর্থের যোগান দেন। স্ত্রীর উদারতায় মুগ্ধ হয়ে জনৈক সালামের ক্রয় করা ভিটে বাড়ীর অংশ থেকে কামরুন্নাহারের নামে ৪০ কড়া জমি হেবা করে দে এবং স্ত্রীর টাকায় ঘর তৈরি করে দিয়ে সৌদিতে পাড়ি জমান। বিয়ের পরবর্তী প্রায় ৬বছর তাদের সংসারে সুখ শান্তির অভাব ছিলনা।

বছর খানেক ধরে তার স্ত্রীর বাড়ীর উপরে লোলুপ দৃষ্টি পড়ে সালামের অপরাপর ভাইদের। কামরুন্নাহার কে উচ্ছেদ করতে তার উপর নেমে আসে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের খড়গ।

তাতে তাঁরা সফল হতে না পেরে প্লানিং করে সালামের আগের ডিভোর্সী স্ত্রীকে কামরুর ঘরের একটি কক্ষতে অনেকটা জোর করে ঢুকিয়ে দেয়। তারপর হতে নির্যাতনের মাত্রা দিগুন হারে নেমে আসে পিতা মাতা হারা এতিম কামরুন্নাহার ও তার ছেলে মেয়েদের উপরে। তাকে নজর বন্দী সহ অনেকটা গৃহবন্দী করে রাখা হয়। শুরুর দিকে সালাম এসবে কান না দিলেও পরবর্তীতে পূর্বের স্ত্রী সন্তান ও তার ভাইদের কথামতো চলতে থাকে। একপর্যায়ে স্ত্রী সন্তানদের ভরণপোষণ সহ যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

কামরু উপায় না দেখে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে মহেশখালী উপজেলাস্থ মহিলা বিষয়ক অধিদফতর হতে সেলাই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। তাতে তার উপর অপবাদ দেওয়া হয় নষ্টা, পতিতা, চরিত্রহীন নারী বলে। এতো শারিরীক মানসিক নির্যাতন নিপীড়ন সহ্য করতে না পেরে চলতি বছরের প্রথমদিকে কক্সবাজার বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করে কামরুন্নাহার।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার স্বামী সালাম অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ সহ তাকে ডিভোর্স দিবে বলে উচ্চবাচ্য করে। পরিশেষে কোন উপায় না দেখে দিশেহারা কামরুন্নাহার সংবাদ কর্মীদের কাছে তার মনের দুঃখ বেদনা শেয়ার করেন।

সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ, স্থানীয় মান্য গন্য ব্যাক্তি, জন-প্রতিনিধি সহ সকলের নিকট সঠিক বিচার প্রার্থনা করেন কামরুন্নাহার।