দ্বীপ নিউজ ডেস্ক: 

মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের সিপাহী পাড়ায় ভাইয়ের হাতে ভাই খুন হওয়ার ঘটনার পর ঘাতকদের বিরুদ্ধে মামলা না নেয়ায় নিহতের ছেলে আইয়ুবের হৃদয়স্পর্শী ফেসবুক স্ট্যাটাস। বাবাকে হত্যা করার ৭ দিন পরেও মামলা নেয়নি মহেশখালী থানা।

গত ১৫ মে বিকাল সাড়ে ৫ টায় ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের সিপাহীর পাড়া গ্রামের আব্দুল গফুরের নেতৃত্ব ৮/১০ জনের সন্ত্রাসী দল কলেজ ছাত্র আয়ুবের বাড়ীতে হামলা চালিয়ে আয়ুব ও তাঁর পিতা ছালেহ আহমদকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।

আহত ছালেহ আহমদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, ঘটনার দুইদিন পর ১৭ মে (রবিবার) রাত ১২ টায় আহত ছালেহ আহমদ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

ঘাতকদের বিরুদ্ধে নিহত ছালেহ আহমদের হত্যা মামলা মহেশখালী থানা এখনো নেয়নি, ঘাতকদের এমন জোর কোথায় তা জানতে চেয়ে বলে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক হৃদয়স্পর্শী স্ট্যাটাস দেন নিহত ছালেহ আহমদের ছেলে।

দ্বীপ নিউজ টুয়েন্টিফোরের পাঠকদের পড়ার সুবিধার্তে নিহত ছালেহ আহমদের পুত্র কলেজ ছাত্র আয়ুবের দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাস হুবহু নিম্নে তুলে ধরা হলো:

(বাবাকে তারা মেরে ফেলেছে। চোখের সামনেই বাবাকে তারা কুপিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে। বাঁধা দিতে গেলে আমাকেও কুপিয়েছে তারা। বাবার নিথর দেহটি নিয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল ঘুরেছি। অবশেষে গত ১৭ মে বাবা চলে গেলেন না ফেরার দেশে। আমরা ভাই বোনদের কাছ থেকে বাবা ডাকটি চিরতরে কেড়ে নিল ঘাতকরা। মা শোকে পাথর। ছোট্ট বোন আর ভাই বাবাকে খুঁজে সারাক্ষণ। সহ্য করতে পারছিনা আমি।

ঘাতকদের বিরুদ্ধে মামলা করতে থানার বারান্দায় ঘুরেছি দিনের পর দিন। জানিনা কোন শক্তির প্রভাবে এখনো মামলা নেয়নি পুলিশ। ঘাতকদের ভয়ে দারুন হতাশা আর আতংকে কাটছে আমার পরিবারের জীবন। বাবা হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে পদে পদে যে পরিমান কষ্ট ও হয়রানীর শিকার হচ্ছি, তাতে বলতে ইচ্ছে হয়- “কেউ যেন বাবা হত্যার বিচার না চায় এই সমাজে”। বাবাকে হারিয়ে আমরা বড্ড অসহায় এখন। অপরদিকে পুলিশ হত্যা মামলাটি না নেয়ায় জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি পরিবার নিয়ে। আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই।)

ছবি: আয়ুুুবের ফেসবুক থেকে নেওয়া

নিহত ছালেহ আহমদের পরিবার এখনো ভয়ে সময় অতিবাহিত করতেছেন বলে জানা যায় নিহতের সন্তান আয়ুবের ফেসবুক স্ট্যাটাসে।

প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আয়ুবের পিতা ছালেহ আহমদ হত্যার বিচারের দাবি তুলেছেন ছোট মহেশখালীবাসী।