এ.কে.রিফাতঃ (মহেশখালী)

কক্সবাজার জেলার দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত এক কন্ট্যাক কিলারকে তিনটি দেশীয় তৈরী অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে মহেশখালী থাবা পুলিশ । মহেশখালী কুতুবদিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জাহেদুল ইসলাম এবং মহেশখালী থানার (ওসি) ইনভেষ্টিগেশন আশিক ইকবালের নেতৃত্বে ১৯ এপ্রিল দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শাপলাপুরের মতিশিয়া নামক পাহাড়ে দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ ।পরক্ষনে আসামীকে নিয়ে দ্বিতীয় দফা অভিযানের মাধ্যমে তিনটি দেশীয় তৈরী অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে তার পাহাড়ি আস্তনা থেকে।

উক্ত ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মােঃ আবদুল হাই । গ্রেপ্তারকৃত মােঃএবাদুল্লাহ ( ২৬ ) শাপলাপুর ইউনিয়নের মৌলভীকাটার আনােয়ার হােসেনের পুত্র বলে স্থানীয় সুত্রে জানা যায় ।

এছাড়াও কন্ট্যাক কিলার মোঃএবাদুল্লাহ বিভিন্ন সময় টাকার লোভে অতীতে বিভিন্ন ঘটনায় তার সঙ্গীয় সন্ত্রাসীদের নিয়ে হামলা চালিয়েছিল বলে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়।

মহেশখালী কুতুবদিয়ার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জাহেদুল ইসলাম বলেন ,কিছুদিন আগে শাপলাপুর ইউনিয়িনে পিতার সহযােগিতায় পুত্র খুনের ঘটনার অন্যতম আসামি মোঃএবাদুল্লাহ ।
সে পুলিশের কাছে স্বীকারােক্তি দিয়েছে , নিহতের পিতার কাছ থেকে সেদিন রাতেই নগদ ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে তার সহযােগীদের নিয়ে খুনের ঘটনায় অংশ নেন ।

উল্লেখ্য যে, গত ১০ মে জমি সংক্রান্ত বিরােধ নিয়ে মহেশখালীর শাপলাপুর জামিরছড়িতে পিতার নেতৃত্বে হামলার মধ্য দিয়ে নিজ ঘুমন্ত অবস্থায় নিজ বাসাতেই খুন হয়েছিলেন মােঃজুবাইর ( ৩০ ) নামের এক যুবক ।সেদিন আহত হয়েছিলেন নিহতের মা , ভাই – বােনসহ আরও চারজন ।

উক্ত ঘটনায় ১২ মে নিহত জুবাইরের বােন রেহেনা আক্তার বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন । ওই মামলার ১৪ নম্বর আসামি হচ্ছেন গ্রেপ্তার হওয়া কন্ট্যাক কুলার মোঃএবাদুল্লাহ।

এ বিষয়ে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মােঃ আবদুল হাই বলেন , জুবাইর হত্যায় এবাদুল্লাহ’র বিরুদ্ধে আদালতে হত্যাসহ ৫ টি মামলা বিচাররাধীন রয়েছে।এদিকে গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মহেশখালী থানার উপ- পরিদর্শক আল আমিন সরকার বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে একটি মামলা রুজু করেছেন বলে জানান তিনি।

এছাড়া ওসি আব্দুল হাই আরও বলেন হত্যার দিনই আমরা ঘাতক পিতা,অত্র হত্যা মামলার ১ নাম্বার আসামীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি।
আজকে আমরা সেদিন রাতের হত্যাকান্ডের কন্ট্যাক কিলারকেও তার আস্তানা থেকে তার কাছে থাকা বিভিন্ন হত্যাকান্ডে ব্যাবহৃত তিনটি দেশীয় তৈরী অস্ত্রসহ আটক করতে সক্ষম হয়েছি।উক্ত হত্যা মামলার বাকি আসামীদের গ্রেপ্তার করতে মহেশখালী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক অভিযান চলমান থাকবে।