নিজস্ব সংবাদদাতা:

মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নে হেফাজতের ইস্যু নিয়ে মামলার আসামি করা হচ্ছে নিরহ সাধারণ জনগনকে এমন অভিযোগ শুনা যাচ্ছে । এতে প্রকৃত আসামী পার পেয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন সচেতন মহল । হেফাজতের তান্ডবে মহেশখালীর বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা, আওয়ামীলীগের অফিস, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ী সহ সংখ্যালঘুরাও বাদ যায়নি ।

স্বাভাবিকভাবেই সব মহল থেকে উঠেছিলো এই তান্ডবকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির জোরালো দাবী । অবশেষে মহেশখালী থানা পুলিশ বাদী হয়ে কয়েকটি অভিযোগে সহস্রাধিক মানুষদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। কিন্তু সেই মামলায় আসামীর তালিকা দেখে সত্যিই অবাক হয়েছে মহেশখালী সাধারণ মানুষ।

উক্ত ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় অন্যতম আসামী করা হয়েছে মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা হারুন তাহেরের পুত্র ব্যবসায়ী মোস্তাফা কামাল আজাদ কে। পুলিশের করা মামলায় তাকে ১৯ নং আসামী করা হয়েছে। ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল কে আসামী করায় সর্বত্র ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। মামলায় তার মতো  একজন নিরপরাধ ব্যাক্তি আসামী হলে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থেকে যাবে বলে মনে করেন অনেকে।

তাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নিরপরাধ ব্যাক্তিদের বাদ দিয়ে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি প্রদানের জোর দাবী জানান ।  ওনি ঘটনাস্থলে না থাকলেও প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে তাকে এ মামলায় আসামী করা হয়েছে বলে জানান অনেকে । এছাড়া তিনি একজন ব্যবসায়ী ও মহেশখালী উপজেলার শাখা বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের একজন সদস্য  ও তিনি কোন রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা নেই বলেও  জানান এলাকাবাসী । ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল গণমাধ্যম কর্মী এরফান হোছাইনের বড় ভাই।

স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা বদিউল আলম জানান , মোস্তফা কামাল একজন সফল ব্যবসায়ী , তাকে সবাই ভদ্র লোক হিসেবে চিনেন এছাড়া ঘটনাকালে তিনি আমাদের সাথে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন ও সাথে ছিলেন কিন্তু মহেশখালীতে সৃষ্ট হেফাজতের নজীরবিহীন তাণ্ডবে পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাকে আসামী করায় ক্ষোভ প্রকাশ করছি । সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে নিরপরাধ ব্যাক্তিদের বাদ দিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আসামী করা অনুরোধ জানান তিনি ।

হেফাজতের তান্ডবলীলা রুখে দিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতা মোরশেদুল আলম জানান, আমি নিজে দেখেছি কারা কারা ছিলো ,এছাড়া উক্ত হামলায় যারা ছিলো তারা ২৩ -২৭ বছরের ছেলে, কিন্তু সেখানে মোস্তফা কামাল আজাদ (৩৬) ছিলো না।

উক্ত ০৩ এপ্রিল, ২০২১ তারিখ রাত অনুমান ৯ঃ৩৫ ঘটিকায় হেফাজতের তান্ডবলীলায় সবচেয়ে আহত ও ক্ষতিগ্রস্থ হয় কালারমারছড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সেক্রেটারি কলিমুল্লাহ আহসান মুন্না। ফলে মুন্নাসহ অনেককে সাক্ষী রেখে  মহেশখালী থানার এস আই আবু বক্কর সিদ্দিক নিজে বাদী হয়ে মামলা করেন (মামলা নং ০৪,  ০৪/০৪/২১) ।

নিরীহ ব্যবসায়ী মোস্তাফা কামালের সম্পৃক্ততা নিয়ে জানতে চাইলে মুন্না বলেন, আমি উক্ত ঘটনার প্রধান সাক্ষী ও ভিক্টিম এবং উক্ত ঘটনায় আমি মোস্তাফা কামালকে দেখি নাই কিন্তু কিভাবে তার নামটা মামলায় দিলো তা দেখে আমি হতবাক। এটি কোন পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কোন দুষ্কৃতিকারী দ্বারা ওনার নাম আসামীর লিস্টে আসতে পারে।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহোদয়ের কাছে সাধারণ জনগনের আবেদন , অবিলম্বে নিরপরাধ মোস্তফা কামাল কে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হউক । পাশাপাশি প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তি দেয়ারও দাবী জানান ।

উক্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালারমারছড়া পুলিশ ফাঁড়ীর এস আই জহির বলেন , উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত না থাকলে কেউ আসামী হবে না । স্বাক্ষী প্রমাণ এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা হবে বলে জানান তিনি ।

মহেশখালী থানার (ওসি) বলেন, অপরাধে সংশ্লিষ্ট নাই এমন কোন অভিযোগ পেলে তা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উক্ত ঘটনাসহ বিভিন্ন মামলায় অপরাধী ও নিরপরাধীদের আসামীর বিষয়ে মহেশখালী – কুতুবদিয়ার সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, অপরাধী যে হউক তাকে দ্রুত শাস্থির আওতায় আনা হবে এবং ভুলক্রমে যেন নিরপরাধীরা আসামী হতে না পারে সকল গণমাধ্যমকর্মী,  আ,লীগ কর্মী সহ প্রশাসনের চোখ কান খোলা রাখতে হবে অন্যথায় অপরাধীরা ছাড় পাবে।