ছবি: মাতারবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়।

মহেশখালীর মাতারবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে ৩৬৩ জন শিক্ষার্থী। আর নিয়মানুযায়ী কলেজে ভর্তি হতে স্কুল থেকে নিতে হবে প্রশংসাপত্র। কিন্তু বিপত্তি বাধে যখন ওই স্কুলে থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা প্রশংসাপত্র আনতে যায়। তখন প্রতি শিক্ষার্থী থেকে প্রশংসাপত্রের জন্য চাওয়া হয় ৬শ’ টাকা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের জিম্মি করে প্রশংসাপত্রের জন্য টাকা নিয়ে বাণিজ্যে মেতেছে খোদ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মাতারবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৩৬৩ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। শিক্ষার্থী প্রতি ৬শ’ টাকা নিয়ে প্রশংসাপত্র বিক্রি করে প্রায় ২ লাখ টাকার বাণিজ্য হচ্ছে এ বিদ্যালয়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, কলেজে ভর্তি হতে স্কুল থেকে প্রশংসাপত্র নিতে গেলে শিক্ষকরা ৬শ’ টাকা ফি দাবি করে। ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী থেকে এ টাকা নেয়া হয়েছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে দু’জন শিক্ষার্থী বলেন, ‘ছয়শ টাকা দিতে না পারায় আমাদের প্রশংসাপত্র দেয়নি। বাড়ি থেকে ৫শ’ টাকা নিয়ে গিয়েছিলাম, ১শ’ টাকা কম থাকায় প্রশংসাপত্র না দিয়ে ফেরত দেন। পরে বাধ্য হয়ে ৬শ’ টাকায় প্রশংসাপত্র নিয়েছি। এখনো অনেকে টাকার জন্য প্রশংসাপত্র নিতে পারেনি।’

প্রশংসাপত্রের জন্য ফি নেয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। করোনাকালীন অর্থনৈতিক সংকটের কারণে টাকা দিতে কষ্ট হচ্ছে বলেও জানান তারা।

টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মানিক চৌধুরী ও প্রধান শিক্ষক রেজা খাঁন বলেন, ‘প্রশংসাপত্র দেয়ার সময় নেয়া ৬শ’ টাকা অনুদান হিসেবে নেয়া হচ্ছে। পাস করা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেন বাধ্যতামূলক অনুদান নেয়া হচ্ছে এবং অনুদান নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি আছে কিনা সেই বিষয়ে জানতে চাইলে তারা আরও বলেন, এই টাকা পরবর্তীতে স্কুলকে কলেজ পর্যায়ে চালু করতে ব্যবহার করা হবে। তবে অনুদান নিতে কোন ধরনের অনুমতি নেয়া হয়নি। নিজেরা বসেই অনুদানের টাকা নির্ধারণ করেছি।

এদিকে উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার ফজলুল করিম জানান, প্রশংসাপত্রে টাকা নেয়ার নিয়ম নেই। আর বাধ্যতামূলক নির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা যাবে না। অভিযোগের বিষয়ে তিনি খোঁজ নিচ্ছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। অভিযোগ হাতে পেলে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

– সিভয়েস