মিছবাহ উদ্দীন আরজু, (নিজস্ব প্রতিনিধি)

মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে এক গৃহবধূকে মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠছে শশুর বাড়ীর লোকজনের বিরুদ্ধে।

সূত্রে জানা যায়, আজ থেকে প্রায় চার বছর পূর্বে কালারমারছড়া ইউপিস্থ ৫নং ওয়ার্ড চিকনী পাড়া এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীনের মেয়ে মায়মুনা খাতুনের সাথে পারিবারিকভাবে একই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড পূর্ব নয়া পাড়া এলাকার মোঃ ছিদ্দীক এর পুত্র মোঃ বাহার উদ্দিনের সাথে ৪ লক্ষ টাকার দেনমোহরে বিবাহে আবদ্ধ হন। বিয়ের এক বছর পর মায়মুনা খাতুনের শশুর-শাশুড়ী ও বাসুর মোঃ আবু বকর মিলে তার সব স্বর্ণ অলংকার ফুসলিয়ে হাত করে নেয় পান বরজ কিনে দেবে বলে।

পরবর্তীতে তাকে আর কিছুই দেওয়া হয়নি পান বরজ কিংবা স্বর্ণ অলংকার। এর কয়েক মাস পর স্বামী বাহার উদ্দিনও ব্যবসা করবে বলে তার স্ত্রী নির্যাতিত মায়মুনা কে চাপ দেয়; বাপের বাড়ি থেকে কিছু টাকা এনে দিতে। স্বামীর ভয়ে কোন উপায় না পেয়ে মায়মুনা বাপের বাড়ি এসে চাচতো বোনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা স্বামী কে এনে দেয়। তখন সে টিউমার রোগী ছিল। পরবর্তীতে মায়মুনা টাকা ও স্বর্ণ অলংকার টিউমারের চিকিৎসা দাবি করলে; শুরু হয় তার উপর শশুর বাড়ির পক্ষ থেকে একাধিক নির্যাতন। এক পর্যায়ে নির্যাতন সইতে না পেরে বাপের বাড়ি চলে আসে। তখন ছিল ২০১৯সাল। আসার কয়েক দিন পর স্থানীয় ইউপি মেম্বারের অফিসে শালিসি বৈঠক হয়। বৈঠকে মায়মুনার সব চাওয়া পাওয়া পূরণ করবে বলে মেম্বারের কাছ থেকেই শশুর শাশুড়ী স্বামী সহ তাকে নিয়ে যায়। নিয়ে গিয়ে কোন দাবিই মেটায়নি মায়মুনার। তবুও চরম নির্যাতনের মধ্যে দিয়েও সংসার জীবন অতিবাহিত করতে লাগলো। পাচ্ছে ঠিক মত ভরনপোষণ। আজ থেকে প্রায় দেড় মাস আগে ডিসেম্বর মাসের শুরুতে আবারও অমানুষিক অত্যাচার শুরু করে সে সইতে না পেরে বাপের বাড়িতে চলে আসে। কয়েক দিন পর ঠিক আগের মত ইউপি মেম্বারের অফিসে শালিস বৈঠক হয়।বৈঠকে পূর্বের ন্যায় তাকে মারধর করবেনা, স্বর্ণ অলংকার, চাচাতো বোনের ২০ হাজার টাকা গুলো দিবে এবং তার টিউমারের চিকিৎসা করবে বলে আবার তাকে নিয়ে যায়। তার পর থেকে তার পাওনা জিনিস তার চিকিৎসা করবে তো দূরের কথা, এখনো অত্যাচারের মধ্যে আছে।

মায়মুনার ভাই আবদু শুক্কুর জানায়, বেশ কিছুদিন বোনের কোন খবর না পেয়ে খবর নিতে লাগলাম। একপর্যায়ে বোনের শাশুরবাড়ির পাশের লোকজনের কাছ থেকে খবর পেলাম তাকে মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতন করতেছে, সাথে সাথে ছোট বোনকে পাঠাই খবর নিতে, সে গিয়ে দেখল সেই পরিস্থিতি।

সে আরো জানায়, একজন অসহায় পিতা মাতা হারানো একটি মেয়ে। মেয়েদের প্রথম সৌন্দর্য হচ্ছে মাথার চুল। বোন আমার কিছুই চায়নি, একটু মাথার তেল চেয়েছিলো। শাশুড়ী ও শাশুড়ীর অন্য পুত্রবধূসহ মিলে তার মাথা ন্যাড়া করে দেয়। সে তার বোনের পাশবিক নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

এ ব্যাপারে স্থানিয় ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি তাদের বিচার বেশ কয়েকবার করেছি, এবং ঘটে যাওয়া বিষয়ে আমি মায়মুনার শাশুরবাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানতে পারলাম; সে স্বামীর সাথে অভিমান করে নিজে নিজে মাথা ন্যাড়া করে পেলেছে। যার প্রমাণ নাকি মায়মুনার শাশুরবাড়ির লোকজনের কাছে সংগ্রহীত আছে।