এ.কে রিফাত:

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শেখ কামালের ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে খতমে কোরআন, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করে মহেশখালী পৌর আওয়ামী লীগ।

পৌর আওয়ামীলীগের নবনির্বাচিত সভাপতি ও পৌর মেয়র আলহাজ্ব মকছুদ মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-২ আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক এমপি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. নুরুল আমিন, এম আজিজুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার পাশা চৌধুরী,সহ- সভাপতি ফরিদুল আলমসহ উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ সহ প্রত্যেক অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এর নেতা-কর্মীরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি আশেক বলেন, শহীদ শেখ কামালের মত সহজ সরল মানুষ এখন প্রায় নেই বললেও চলে। ঘাতকদের বুলেটে নিহত শহীদ শেখ কামাল এখজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক এবং ক্রীড়াবীদ। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তাছাড়াও ১৫ আগষ্ট হত্যাকান্ডের বিচার বাংলার মাটিতে কার্যকর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান তিনি। এসময় এমপি আশেক শহীদ শেখ কামালের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে মহেশখালী পৌর আওয়ামীলীগের নবনির্বাচিত সভাপতি ও পৌর মেয়র আলহাজ্ব মকছুদ মিয়া বলেন, বঙ্গবন্ধুর জৈষ্ট পুত্র শহীদ শেখ কামাল দেশের এক বিরল দৃষ্টান্ত সম্পদ ছিলেন। যার কারন হিসেবে বলা যায় তিনি ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ক্রীড়াবিদ এবং দক্ষ সংগঠক। তিনি আরও বলেন যারা ১৫ আগষ্টের হত্যাকাণ্ড ঘঠিয়েছে তাদের দোষররা এখনো সজাগ রয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামিলীগের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের এটা মাথায় রেখে বঙ্গবন্ধুর সপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মিশন ২০৪১ কে সফল করার লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে বলেও জানান তিনি।

উল্যেখ্য যে, শেখ কামাল ১৯৪৯ সালের ৫ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ভাইবোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। শেখ কামাল শাহীন স্কুল থেকে এসএসসি এবং ঢাকা থেকে এইচএসসি পাস করেন। এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএ (অনার্স) পাস করেন। যুদ্ধের পর তিনি সেনাবাহিনী ত্যাগ করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যান। সেখান থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তিনি ছায়ানট থেকে সেতার শিখেন।

এছাড়াও শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও শহীদ শেখ কামাল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তিনি মুক্তিবাহিনীর অন্যতম সংগঠক ছিলেন। যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর এইড ডি ক্যাম্প (এডিসি) হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই তিনি ক্রীড়াবিদ সুলতানা খুকিকে বিয়ে করেন। তিনি ঢাকা আবাহানী লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তিনি সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন।