সম্পাদকীয়:

মহেশখালীতে প্রতিদিনই কিন্তু সংগঠন হচ্ছে। আমি বিশেষ করে সাংবাদিক, সংবাদকর্মী সংশ্লিষ্ট সংগঠন গুলোর কথা-ই বলছি। এসব সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত অনেকে সাংবাদিকতায় অত্যন্ত অভিজ্ঞ প্রায় সকলেই মেধাবী, এবং সচেতন। তাদের অধিকাংশই আবার তরুণ। তারা অনেকেই আমার পরম শ্রদ্ধার, অভিভাবক, শুভাকাঙ্ক্ষী, প্রিয়জন, সহকর্মী। মহেশখালী প্রেস ক্লাব, মহেশখালী উপজেলা প্রেস ক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি মহেশখালী, মহেশখালী রিপোর্টার্স ইউনিটি, মহেশখালী অনলাইন প্রেস ক্লাবসহ এক উপজেলায় একাধিক সাংবাদিক সংগঠন রয়েছে। মহেশখালী প্রেস ক্লাব ছাড়া অন্যসব সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকার সাদর আমন্ত্রণ থাকলেও দ্বিধাবোধে এড়িয়ে গেছি। অনেকে আবার তাদের দলভূক্ত না হওয়ায় অভিমান করেছেন। মহেশখালীতে এতো সাংবাদিক এতো সংগঠন হয়ে কি হলো? মহেশখালীর সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় করা গেছে? মহেশখালীর দৃশ্য পাল্টে গেছে? মহেশখালীর আইনশৃঙ্খলার পরিবর্তন হয়েছে? মহেশখালীর বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে দুর্নীতি রোধ করা গেছে? মহেশখালী ঘাটের নিত্যদিনের দুর্ভোগ নিরসন করা গেছে? মানুষের জীবনযাপনের উন্নতি হয়েছে? মহেশখালীতে শিক্ষাব্যবস্থার কি আমুল পরিবর্তন এসেছে? বাংলাদেশের যেই প্রান্তেই হোক নিজেরা গর্বের সাথে বুক ফুলিয়ে বলা আমি বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ী দ্বীপ মহেশখালীর সন্তান, মহেশখালীর সেই “পাহাড়” কি আমরা রক্ষা করতে পেরেছি? মহেশখালীতে এতো এতো সাংবাদিক ও সংগঠন করে আমরা কি আমাদের ভূমি রক্ষা করতে পেরেছি? কুহেলিয়া নদী ভরাট করে তার বুক চিরে সড়ক হচ্ছে আমরা কি থামাতে পেরেছি? স্পীড বোট, গাড়ী চালকদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের গাদ্দারী থামাতে পেরেছি?

মহেশখালীর এতো এতো সাংবাদিক সংগঠনের সাথে যুক্ত আমরা সকলেই লবণ, পান, কাঁকড়া চিংড়ি শিল্পের শ্রমিকের সন্তান কই আমরা কি এই শিল্পকে রক্ষা করতে পারছি? এই শিল্পের সাথে যুক্ত শ্রমিকদের তাদের ন্যায্য মূল্য আদায় করে দিতে পেরেছি? আদোও কি পারবো? তাহলে এই “সাংবাদিক, সংবাদকর্মী” সংগঠনের কাজই বা কি? কয়েকদিন ফেসবুক সয়লাব করে অভিনন্দন পাওয়া, নিজেদের দলভূক্ত করে দল ভারী করা, নিজেকে সাংবাদিক নেতা দাবী করা, নিজের কিংবা নিজ সংগঠনের কারো উপর কোনো হামলা কিংবা মামলা হলে সোশ্যাল মিডিয়া সয়লাব করে তীব্র নিন্দা জানানো, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে নিজেদের অধিকার আদায় করা? তাহলে এই মহেশখালীর বৃহৎ শ্রেণীর সাধারণ মানুষের অধিকারের কথা কারা বলবে? তাদের ন্যায দাবী কারা আদায় করে দিবে? সাধারণ মানুষের কন্ঠচেপে ধরা শক্তির বিরুদ্ধে কারা দাঁড়াবে? আদোও কি কোনো সংগঠন সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের দৃঢ়তার সাথে ধৃষ্টতা দেখাতে পারবেন? কোনো শক্তির বিরুদ্ধে কলমের শক্তির জোরে দাঁড়াতে পারবেন? যদি না-ই পারেন তাহলে এসব করে লাভ কি? সে দ্বিধাবোধ থেকে যুক্ত হতে পারিনি। আমি খুবই নগণ্য অযোগ্য মানুষ, মেকি অভিনন্দন আমাকে কখনোই আত্মশান্তি দিতে পারেনি। আগামীতেও পারবে না। মহেশখালীতে এতো এতো সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠন থাকার পরেও আমরা নিজেদের রক্ষা করতে ব্যর্থ, প্রজন্মের কাছে মাথানত করে বাঁচতে হবে।

মহেশখালীতে ব্যাপক উন্নয়নের আড়ালে ব্যাপক দুর্নীতির সংবাদ যখন মহেশখালীর বাইরের কোনো সাংবাদিক’কে প্রকাশ করতে হয় তখন নিজেদের মাথা কি খাটো হয়ে যায় না? তাহলে এসব করেই বা লাভ কি? কারো হুংকারের বিরুদ্ধে যদি বুক চেতিয়ে কলম তাক্ করে দাঁড়াতে না পারেন তাহলে এসব করে কাজ কি? সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের মধ্যে যতোই বিভক্ত হবে ততই দুর্নীতিবাজ জনপ্রতিনিধি, দুর্নীতিবাজ আমলা, লুটপাটকারী শ্রেণির সুবিধা। তাদের সুবিধার জন্য নিজেদের মধ্যে বিভক্ত করে চলেছে এই জনপদের সাংবাদিকরা।

মহেশখালীর সকল সাংবাদিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত প্রায় সকলেই আমার পরম আত্মার আত্মীয় সকলেই আমার দুঃসময়ের আপনজন। সকলেই শুভাকাঙ্ক্ষী।

সব শেষে বলতে হয়; মহেশখালীতে ঘরে ঘরে সাংবাদিক হবে, পাড়ায় পাড়ায় হবে সাংবাদিক নেতা কাজের কাজ কিছুই হবে না। সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিক সংগঠনের নেতা হতে হয় না, মেধা ও কলম’ই তার আসল শক্তি। অতীতে যারা মহেশখালীকে ভালোবেসে মহেশখালীর স্বার্থে মহেশখালীর বিভিন্ন প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলেছেন, লিখেছেন তারাই থাকবেন। বাকিরা অভিনন্দন নিয়ে নেতা বনে যাবে।

-কাব্য সৌরভ
মহেশখালী প্রতিনিধি (টিটিএন)