কাইমুল ইসলাম ছোটন (মহেশখালী প্রতিনিধি)

দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর খ্যাত মাতারবাড়ীতে চলছে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড তার মধ্যে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, সিঙ্গাপুর প্রজেক্ট, মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলমান হলেও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার হয়নি মাতারবাড়ীর প্রধান সড়কগুলো। পরিণত হয়েছে অবহেলিত রাস্তায়। জেলা-উপজেলা সদরে যাওয়ার একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম মাতারবাড়ীর প্রধান সড়কটি।

মাতারবাড়ী ব্রীজের পশ্চিম পাশের রাস্তার বেহাল দশা। চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন। তাতে শেষ নেই, মাতারবাড়ীর সিএনজি স্টেশন হতে সর্দার পাড়ার প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তা দিয়ে সহস্রাধিক মানুষ যাতায়াত করতে হয়। প্রতিদিন প্রকল্পে নিয়োজিত গাড়ি, ইট-বালু ভর্তি ট্রাক, পণ্যবাহী যাহবাহন সহ শতাধিক গাড়ি এবং মাতারবাড়ী ইউনিয়নের ৪,৫,৬,৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের সহস্রাধিক মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। মাঝে মধ্যে ঘটছে দুর্ঘটনা। রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে ছোটবড় অনেক খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাতারবাড়ী এই প্রধান রাস্তাগুলো খানা-খন্দে ভরা। বিশেষ করে বলিরপাড়া, তিতামাঝির পাড়া, ফুলজান মোরা, সর্দারপাড়া রাস্তার করুণ অবস্থা। লক্কর-ঝক্করের কারণে যানবাহন আসতে চাই না রাস্তাগুলো দিয়ে। ৫-৬ বছরে সংস্কারের ছোঁয়া না লাগাই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
মাতারবাড়ী বড় গদার পুলের পূর্ব পাশে গত বর্ষায় গাইডওয়াল পড়ে যাওয়ায় রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে যেকোন মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় দূর্ঘটনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে ছোটবড় অনেক খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে জেলা বা উপজেলা শহরে যোগাযোগ করতে নিত্যদিন দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। এমন অবস্থা হলেও রাস্তা সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেননি এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। বর্ষাকালে ওই সব গর্তে জল জমে প্রায় ডোবায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ অবস্থায় রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নির্মল বড়ুয়া নামে একজন ভ্যানচালক জানান, চালিয়াতলী থেকে মাতারবাড়ী সড়কে ভ্যান নিয়ে মালামাল আনা-নেওয়া করি। খানা-খন্দের কারণে মালামাল নিয়ে মাতারবাড়ী প্রবেশ করতে করুণ অবস্থা হয়ে যায়।

নুরুল আবছার নামে একজন অটোচালক বলেন, এই রাস্তাগুলো প্রায় খানাখন্দে ভরা। ভাঙ্গা রাস্তার কারণে গাড়ি প্রায় বিকল হয়ে পড়ছে। বড় বড় গর্তে গাড়ি পড়ে আটকে যায়। যার ফলে যাত্রী নিয়ে চলাচলে অনেক কষ্ট হয়ে যায়, স্বীকার হতে হয় বিভিন্ন দূর্ঘটনার।

মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্র মোহাম্মদ হোবাইব বলেন, ফুলজান মোরা রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। আর বর্ষার সময় পানি ও কাদা মেখে চলাচল করতে হয়। অন্তত ইট সলিং এর ব্যবস্থা করা হলে হয়ত ভালভাবে চলাফেরা করতে পারব।

মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য ছকুনতাজ আতিক জানান, রাস্তাগুলো ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সংস্কার করা হয়েছিল কিন্তু বর্ষায় পানি চলাচলের কোন ব্যবস্থা না থাকায় তা আবার ভেঙ্গে যায়। তবে দ্রুত সংস্কারে করার জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, এলজিইডি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আমরা রাস্তাটি সংস্কার করেছি। প্রকল্পের ভারি ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে রাস্তাগুলো ভেঙে যায়। মাতারবাড়ী প্রধান সড়কের কাজ দ্রুত শুরু হবে।

মহেশখালী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে বলেন, দ্রুত রাস্তার কাজ শুরু হবে। বর্তমানে ১২ ফুট থাকলে ও এটা ১৮ ফুটে উন্নতকরণ করা হবে এবং সড়ক সংস্কার করার জন্য আমরা ডিজাইন পাঠিয়ে দিয়েছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিএনজি স্টেশন থেকে সর্দার পাড়া পর্যন্ত রাস্তার সংস্কার করা হয়েছে। তবে বর্ষা মৌসুমে পানি চলাচলের ব্যবস্থা না থাকার কারণে রাস্তায় গর্ত সৃষ্টি হয়। এই রাস্তা ৩-৪ ফুট উঁচু করে দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।