পাঠক কলাম:

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাহাড়ী দ্বিপাঞ্চল মহেশখালী থানাধীন ১নং মাতারবাড়ি ইউনিয়ন ইউনিয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ বলে বিবেচিত।

এই অঞ্চলের দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের পাশ ঘেঁষে নির্মিত হচ্ছে জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাইকা কোঃ কর্তৃক বিখ্যাত ১৪০০ মেগাওয়াট কয়লা ভিক্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। উত্তর-পশ্চিমে ১২০০ মেগাওয়াট এর আর ও একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এই প্রকল্প দ্বয়ের সাথে সংযোগ রেখে মাতারবাড়ীতে স্থাপিত হচ্ছে বাংলাদেশের বৃহত্তম ও গভীরতম সমুদ্রবন্দর, এল.এন.জি গ্যাস টার্মিনাল, একটি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ সহ আর ও নানাবিদ উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে এই সকল উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করার মধ্যদিয়ে এই মাতারবাড়ি ইউনিয়ন কে বিশ্বের দ্বিতীয় সিঙ্গাপুরে রুপান্তর করার ঘোষণার পাশাপাশি দৈনন্দিন কর্মযজ্ঞ এ সব পরিকল্পনা পরিচালনা করেই যাচ্ছেন।

সকলে অবগত আছেন যে, স্বাধীনতার পর অধ্যবধি অনেক শাসকের হাত ধরে বর্তমান মাতারবাড়ি অঞ্চল জননেত্রী শেখ হাসিনার মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে হাঁটছে। এ অঞ্চলের অবহেলিত জনসাধারণ আদৌ নির্মম এক অবসাদ নিয়ে তাদের জীবন পরিক্রমায় দিনাতিপাত করেই যাচ্ছেন। নানান শাসকের হাত ধরে এ অঞ্চল শাসিত হলেও জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার, বিচার ও সুশাসন তথা মাদক ও চোর-সন্ত্রাসের ত্রাস থেকে মুক্তি দিতে পারেনি বলে মনে করি। শাসক দলের একেক জন নানান অপকর্মে জড়িত হয়ে কলঙ্কিত মাতারবাড়ি উপহার দিয়ে আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিয়েছেন অনেকেই, যে ইতিহাস সর্বসাধাণের মাঝে সুস্পষ্ট। কোন কোন শাসক গরীব অসহায়ের জন্য দেওয়া সরকারী ত্রাণ সামগ্রী চুরি করে নিজকে চোর প্রমাণ করেছে। কোন শাসক মানুষ খুন করার মত জগণ্য অপরাধে সহযোগিতা করে নিজেকে খুনি প্রমাণ করেছে, কোন শাসক দূর্নীতি, ঘুষ আর বিচারের জমা টাকা আত্মসাৎ করে নিজের সম্পদের পঁসরা সাঁজিয়েছেন।

কেউ হামলা মামলায় উস্কানি দিয়ে নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করেছেন। কেউ আবার প্রকল্পে চাকরি দিয়ে বেতন এবং চাকরির নামে হাজারো যুবককে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এসব অপকর্মে জড়িত শাসকদের বেশির ভাগই ছিল উচ্চ শিক্ষিত। নিম্ন-শিক্ষিত ও অর্ধ-শিক্ষিতদের শাসকরা অন্তত জনগনের অধিকার আদায়ের চেষ্টা করেছেন।

উচ্চ শিক্ষিত শাসকরা পবিত্র কলমের কালিকে ও অপবিত্র করতে একটুও কুন্ঠাবোধ করেননি। সর্বসাধারণকে আশাহত করে নিজেদের অমায়িক নেতা প্রমাণের অপচেষ্টা করছেন শুধুমাত্র। এই উন্নয়ন প্রকল্প কে কেন্দ্র করে বর্তমানে এক শ্রেণীর রাজনৈতিক মহল, অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও দালাল চক্র এ অঞ্চলের গরীব অসহায় মানুষের বুকে পারা দিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা লুটপাট ও দূর্নীতি করে নিজেদের পেটের ক্ষিধা নিবারণে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় কর্মহীন শ্রমিক ও বেকার যুবকের চাকরি বাণিজ্য এবং টেন্ডারবাজি করে অনেকেই কোটি টাকার মালিক হবার দিবাস্বপ্ন নিয়ে নির্বাচনে হট প্রার্থী হয়েছেন।

আসন্ন ইউনিয়ন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সকল শ্রেণীপেশার মানুষের মাঝে রীতিমতো নানান রকম জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় সব জায়গায় নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে প্রার্থীগণ প্রত্যাশার ফাঁকা বুলি ছুঁড়ে জনগণের ভোট আদায়ের লক্ষ্যে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।

সচেতন সমাজের জনমনে প্রশ্ন একটাই….
এবার ও কি সাধারণ জনগন স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে এ অঞ্চলের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবে?

আমি মনে করি বর্তমান মাতারবাড়ির প্রেক্ষাপট চিন্তা করে সাধারণ জনগণ সিদ্ধান্ত নিবে এই নেতৃত্ব কার হাতে দিলে তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবেন। কর্মহারা শ্রমিক তার দৈনিন্দন কাজ, বেকার যুবক পাবেন নির্দিষ্ট চাকরি।
সর্বোপরি আগামী পাঁচটি বছর নীতি-নৈতিকতার সহিত সঠিক দ্বায়-দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনগণকে সেবা দানে কার সক্ষমতা আছে সেটি বিবেচনা করবেন! এই অতিবাহিত শাসক এবং বর্তমান নির্বাচনী প্রার্থীদের মাঝে একজন দক্ষ, সৎ-সাহসী, নীতিবান, নৈতিক ও মানবিক পরিক্ষীত শাসকের কথা না বললে হয়না। যিনি সততা ও নীতি-নৈতিকতার সহিত একটি সময় শাসন করেছেন, যিনি ক্ষমতায় থেকে মাদক, চোর-সন্ত্রাস স্বমূলে নির্মুল করেছিলেন আর ক্ষমতায় না থেকেও দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে আর্থিক সহযোগিতা ও জনসেবা, সমাজিক বিচার ব্যবস্থার পথ সচল রেখে, চোর সন্ত্রাসের দখলবাজি ও অস্ত্রের ঝন-ঝনানির বিরুদ্ধে অনড় অবস্থান জানান দিয়েছেন।

তিনি সব স্বার্থ ও সম্পর্কের উর্ধ্বে অবস্থান নিয়ে ন্যায় বিচারক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, দালালমুক্ত, ঘুষমুক্ত, দূর্নীতিমুক্ত সর্বোপরি নারীর পূর্ণঅধিকার বাস্তবায়ন সহ পুরো মাতারবাড়িতে নিরাপত্তার বলয় সৃষ্টিকরে শান্তিপূর্ণ একটি অঞ্চল উপহার দিয়ে সর্বসাধারণের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তিনি অত্র জনপদের সকল শ্রেনী-পেশাজীবি ,সাধারণ খেটে খাওয়া,গরীব দুঃখী মেহনতি মানুষের প্রাণপ্রিয় প্রতিনিধি……..

জনাব আলহাজ্ব এনামুল হক চৌধুরী (রুহুল)

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা!
আপনার সুপ্ত মেধার চিন্তাচেতনায়, বিবেক দিয়ে বিবেচনা পূর্বক ক্ষুদ্রস্বার্থ ত্যাগ করে, বৃহৎ জনস্বার্থের কথা ভেবে, আগামীর সুন্দর,শান্তিপূর্ণ ও আধুনিক মাতারবাড়ি বিনির্মাণে এমন একজন শাসক কে প্রতিনিধি নির্বাচিত করার জন্য আপনার সহযোগিতা,ভালবাসা ও আন্তরিক দোয়া কামনা করছি।

লেখক: মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন
সাবেক শিক্ষক – মাতারবাড়ী আইডিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।