ছবি: লাল বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত শোয়াইব।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

কক্সবাজারের মাতামুহুরি সাংগঠনিক উপজেলা ছাত্রলীগের আওতাধীন বদরখালী এমএস ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শোয়াইবকে নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

গত ২২ মে মাতামুহুরি সাংগঠনিক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি চৌধুরী মোহাম্মদ আফসি ও সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ তানবির স্বাক্ষরিত একটি পাতায় ১৪ জন বিশিষ্ট উক্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি টি ঘোষণা করেন।

ছবি: ছাত্রদলের ইউনিট ও কর্মীদের ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত।

মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী থেকে এক লাফে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ায় তাকে নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক। ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় একজনকে ছাত্রলীগের মতো সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় মাতামুহুরি সাংগঠনিক উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দকে নিয়েও চলছে নানা সমালোচনা।

শোয়াইবের সঙ্গে ছাত্রদলের রাজনীতি করা অনেকেই বলেছেন, শোয়াইব মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়ন শাখা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ইতিপূর্বে। হঠাৎ প্বার্শবর্তী ইউনিয়ন বদরখালীর এমএস ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হওয়ায় সবাই অবাক হয়েছেন।

ছবি: ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়েত নেতার পক্ষে কাজ করার গ্রুপ চ্যাট।

বিগত ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহেশখালী – কুতুবদিয়া আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও নৌকার বিরুদ্ধে গিয়ে জামায়েত নেতা, সাবেক সাংসদ হামিদুর রহমান আজাদের তথা (আপেল) প্রতীকের প্রচারণায়ও সক্রিয় ছিলেন।

তাছাড়াও মোহাম্মদ শোয়াইব বর্তমান মহেশখালী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহেশখালী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রিয়াদ মোহাম্মদ আরফাতের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বর্তমান যুবদল নেতা রিয়াদ মোহাম্মদ আরফাতের ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত।

সূত্রে জানা যায়, মহেশখালী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রিয়াদ মোহাম্মদ আরফাতের কর্মী শোয়াইব, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়েত নেতা হামিদুর রহমান আজাদে পক্ষে মাঠপর্যায়ে প্রচারণা করেন। পরে এই প্রার্থীর পরাজয় হয়। এই পরাজয়ের কিছুদিন পর থেকে ছাত্রদলের আশেপাশে দেখা যায়নি শোয়াইবকে। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২ নভেম্বর কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণার পর মহেশখালীর মাতারবাড়ীর জনৈক ছাত্রলীগ নেতার সাথে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাদ্দাম হোছাইনের সাথে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে ছাত্রলীগ জাহির করে নিজেকে।

এরপর থেকেই নিজেকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং মাতারবাড়ীর জনৈক এক নেতার কর্মী দাবি করে বিভিন্ন পোস্ট করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সে লবিং নিয়েই বদরখালী এমএস ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের সহ-সভাপতি পদে আসলো শোয়াইব, এমনটাই বলছেন অনেক বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক বর্তমান নেতাকর্মীগণ।

ছবি: আওয়ামী সরকার বিরোধী প্রচারণারও অংশীদার ছিলো শোয়াইব।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পূণরায় ক্ষমতায় আসলে এর পর থেকে সাপের খোলস পরিবর্তন করার মতো দল পরিবর্তন করে ৩ বছর ৪ মাস ২১ দিন পর এসে গত (২২ মে) বদরখালী এমএস ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার সহ-সভাপতি পদে আসেন।

এনিয়ে মাতামুহুরি সাংগঠনিক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি চৌধুরী মোহাম্মদ আফসি জানায়, বদরখালী এমএস ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি সোয়াইবের কিছু স্ক্রিনসট এবং ছবি আমাকে অনেকে পাটিয়েছে। কিন্তু সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যথাযথ কোন ডকুমেন্টস আমরা পাইনি এখনো, তাছাড়া কেউ লিখিতভাবে অভিযোগও করেনি।

তিনি আরো বলেন, বিগত একাদশ সংসদ নির্বাচনে সে নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বা জামায়েত নেতা হামিদুর রহমান আজাদের জন্য ভোটেরমাঠে ছিলো এমন কোন ডকুমেন্টস পাইনি যদিও অনেকে মুঠোফোনে আমাকে জানিয়েছে। কিন্তু যে ছবি ও স্ক্রিনসট পেয়েছি তাঁর যাচাই-বাছাই চলছে। প্রমাণ মিললে ও লিখিত অভিযোগ ফেলে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিব।

উক্ত বিষয়ে কথা বলার জন্য মাতামুহুরি সাংগঠনিক উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ তানবিরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি কল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের এক জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগ নেতার হাত ধরে ছাত্রলীগের মতো গুরুত্বপূর্ণ দলে অনুপ্রবেশ করে শোয়াইব। পরে জনৈক এক ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে জেলার নেতাদের সাথে সেলফি তোলে তোলে নিজেকে ছাত্রলীগের বড় ত্যাগী কর্মী জাহির করেন।

স্থানীয় মাতারবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান করে নিতে নানান ধরনের লবিং করেও ব্যর্থ হয়েছিলো কমিটিতে আসতে। পরে প্বার্শবর্তী বদরখালী ইউনিয়নস্থ এই ডিগ্রি মাদ্রাসা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পদে আসে শোয়াইব।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগে এভাবে অনুপ্রবেশ হতে থাকলে। এবং এধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে না পারলে দলের ভবিষ্যতে কাল হয়ে দাঁড়াবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা। তাছাড়া ছাড়ালীগের বিভিন্ন ইউনিটে তৃণমূলের পদ বঞ্চিত নেতাকর্মীরা ক্ষোভ জানিয়েছেন।