মহেশখালী প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীর রাজনীতি এখন এক জমজমাট পরিবেশে অতিবাহিত হচ্ছে দিনদিন।

আওয়ামী সরকারের উন্নয়নের বৃহৎ একটি অংশ হিসাবে কক্সবাজার জেলার দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী মাতারবাড়ীতে বৃহত্তর দুটি মেগা প্রকল্প প্রায় বাস্তবায়নের পথে। উক্ত প্রকল্পগুলোকে ঘিরে এই ব-দ্বীপ অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন হিসেবে বেশ আলোচিত জেলার মধ্যে।

মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ফেসবুক ও পোস্টারের রাজনীতিতে সরব এই জনপদ! নৌকা প্রতীক নির্ভর মৌসুমি নেতারা নৌকার টিকেট না পেলে অনেকেই সরে দাঁড়াবেন খবর নির্ভরযোগ্য সূত্রের। কিন্তু জন নির্ভর হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভাগ্যে নৌকার টিকেট না জুটলেও নির্বাচনে অংশ নিবেন এমনটি মনে করছেন মাতারবাড়ীর বৃহত্তর জনগোষ্ঠি ও সাধারণ ভোটাররা। জানাগেছে, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ তথা নৌকা প্রতীক চেয়ে ডজন খানেক নবীন-প্রবীণ মিশ্রিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বিভিন্নভাবে প্রচারণা এবং তদবির চালিয়ে গেলেও আলোচনায় রয়েছেন হাতেগোনা কয়েকজন।

আওয়ামীলীগ থেকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তারা হলেন, মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক রুহুল, মাতারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম ছমি উদ্দিন, জেলা পরিষদের সদস্য রুহুল আমিন, বর্তমান চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ, মাতারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হায়দার, কক্সবাজার জেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কুতুব রানা, মাতারবাড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি আবদু সাত্তার, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম উল্লাহ সেলিম, এ ছাড়া সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মোস্তাক আহমদের পুত্র অধ্যাপক সেলিম।

তবে শক্তিশালী অবস্থানে আছেন চারজন। তারা হলেন, মাতারবাড়ী আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব জিএম ছমি উদ্দিন, মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল হক রুহুল, জেলা পরিষদের সদস্য মাষ্টার রুহুল আমীন।

রাজনীতির সুস্থ ধারা ব্যাহত হচ্ছে দেশে বারবার। যারা জণগণের প্রতিনিধি তারা সম্মানের পাত্র হবেন সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু জনতা যখন দেখে মহেশখালীর বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা জনগনের ধারে কাছে না গিয়ে নিজেদের ব্যবসা বাণিজ্য নিয়েই ব্যস্ত। নির্বাচন এলেই এরা মানবদরদী ও জনদরদী হলেও সারা বছরে তাঁদের প্রতিচ্ছবি ও জনগন দেখে না। অনেক শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী নানাভাবে তদবিরে রয়েছেন মনোনয়ন লাভ ও নির্বাচনে কালো টাকা ছড়িয়ে দলীয় ভাবমূর্তিকে কাজে লাগিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে যাওয়ার পর আবার ফিরে যান পুরোদমে ব্যবসায়। অর্থাৎ তিনি তার এলাকার ভোটারকেই চেনেন না।

ডিসেম্বর বিজয়ের মাস এখন মাতারবাড়ীতে শুরু হয়েছে, ব্যানার, পোষ্টার ফেসবুকের রাজনীতি। পোস্টার, ব্যানারে ছেয়ে গেছে মাতারবাড়ীর প্রত্যন্ত জনপদ আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকীতেও শোকের ব্যানারে হেড স্লোগান, বঙ্গবন্ধুর ছবির পাশে নিজের ছবি ব্যবহার করে উক্ত পোস্টারের ছড়াছড়ি। নির্বাচন ২০২১ সালের মার্চে সেই হিসাবে এখন বিজয় মাসে এসে সমগ্র এলাকার পরিত্যক্ত দেওয়াল গুলোতে রঙিন পোস্টারের ছড়াছড়ি।

বিজয় মাসকে পূঁজি করে নির্বাচন মূখী এমন পোস্টার লাগানোর হিড়িক পড়ায় নানা গুঞ্জন দেখা দিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহলের কাছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানতে পারি, বিগত নির্বাচনের পর প্রায় ৩/৪ বছর এমন পোস্টার লাগানোর দৌড়ঝাঁপ এলাকায় দেখা যায়নি আর। কিন্তু আগামী ২০২১ সালের মার্চেই মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলে হঠাৎ এমন পোস্টারের হিড়িক অফলাইন এবং অনলাইনে। বর্তমান আওয়ামী সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ কে লক্ষ্য করে অধিকাংশ প্রার্থীর নির্বাচন করা এমনটা বলছেন এলাকাবাসী।

তবে অধিকাংশ প্রার্থীর দিকেই যদি একেকটা দোষের তীর ছুড়ে দেওয়া হয় তাহলে কে হচ্ছে আগামীর নৌকা মাঝি? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মাতারবাড়ীর স্থানীয় অনেক শিক্ষিত যুবক, এবং অফলাইনে অনেক আলোচনা সমালোচনার মধ্য দিয়ে ওঠে আসতেছে বেশ কয়েকজনের নাম। করোনাকালীন সময়ে সাধারণ জনতার কাছে ছুটে আসা, মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিক ছাঁটাই আন্দোলনের সাথে শরীক হওয়া, সাধারণ জনতার সঙ্গে কাজ করা, সাধারণ জনতার সময়ে-দুঃসময়ে পাওয়া, আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের ত্যাগী ২/১ জন রাজনীতিবিদের নাম ওঠে আসতেছে ইতিমধ্যে।

এখন শুধু বাকী রয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। যেমনটা তৃণমূল থেকে জানতে পারলাম, মাতারবাড়ীর সাধারণ জনতা আগামীর চেয়ারম্যান হিসাবে জনকল্যাণমুখী প্রার্থীকেই চায়, প্রকল্পমুখী কোন ব্যাক্তিগতকেই নয়।