আ.স.ম মিছবাহ উদ্দীন আরজু

শাওয়াল মাসে অনেক আমল রয়েছে এসব আমলের ফজীলতও অনেক বেশি। এ মাসের গুরত্বপূর্ণ একটি আমল হচ্ছে শাওয়ালের ‘ছয় রোজা’। রমজানের ফরজ রোজা পালনের পর শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখা মুস্তাহাব। আর এ রোজাকে শাওয়ালের ছয় রোজা বলা হয়। এই রোজার অনেক ফজীলত রয়েছে যা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। রাসূল আকরাম (সা.) নিজে এ রোজা রাখতেন এবং সাহাবায়ে ক্বেরামগণকে ও রাখার জন্য নির্দেশ দিতেন।

শাওয়ালের রোজার ফজিলত : এই রোজার ফজীলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যারা মাহে রমজানের ফরজ রোজা রাখবে, অতঃপর মাহে শাওয়ালের ছয় রোজা রাখবে তারা সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব অর্জন করবে। (মুসলিম শরীফ :১ম.খ- ৩৬৯ পৃ:)

হজরত মুসলিম কারশী (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞেস করলাম সারা বছর রোজা রাখা সম্পর্কে; রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন তোমার উপর তোমার পরিবার-পরিজনের হক রয়েছে। অতঃএব তুমি রমাদান মাস ও এর পরবর্তী মাস তাতে রোজা রাখবে এবং প্রত্যেক বুধবার, বৃহস্পতিবার রোজা রাখবে। আর যখনই এরূপ করলে যেন সারা বছর রোজা রাখলে। (আবু দাউদ, তিরমিযি: হাদীস নং-৭৪৮)
একটি বর্ণনায় পাওয়া যায়, প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ্ তায়ালা শাওয়াল মাসের ৬ দিনে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি ওই ৬ দিন রোজা রাখবে আল্লাহ্ তায়ালা প্রত্যেক সৃষ্টি জীবের সংখ্যা হিসাবে তার আমলনামায় নেকি লিখে দেবেন, সমপরিমাণ গুনাহ দূর করে নেবেন এবং পরকালে তার দরজা বুলন্দ করে দেবেন। শাওয়ালের রোজা ঈদের পর শাওয়াল মাসের যে কোন দিন লাগাতার ৬ টি রাখলে হয়।

শাওয়ালের রোজার উপকারিতা: এ রোজা ফরজ নামাজের পর সুন্নাতে মুআক্কাদার মতো। যা ফরজ নামাজের উপকারিতা ও তার অসম্পূর্ণতাকে পরিপূর্ণ করে। অনুরূপভাবে শাওয়াল মাসের ৬ রোজা রমজানের ফরজ রোজার অসম্পূর্ণতা সম্পূর্ণ করে এবং তাতে কোনো ত্রুটি ঘটে থাকলে তা দূর করে থাকে। সে অসম্পূর্ণতা ও ত্রুটি কথা রোজাদার জানতে পারুক আর নাই পারুক।
তাছাড়া রমজানের ফরজ রোজা পালনের পরপর পুনরায় রোজা রাখার মানেই হলো রমজানের রোজা কবুল হওয়ার একটি লক্ষণ। যেহেতু মহান আল্লাহ্ কোনো বান্দার নেক আমল কবুল করেন, তখন তার পরেই তাকে আরও নেক আমল করার তাওফিক দান করে থাকেন। যেমন উলামাগণ বলে থাকেন, ‘নেক কাজের ছাওয়াব হলো, তার পরে পুনরায় নেক কাজ করা। (আহকামিস সিয়াম)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রমযানের রোজা রাখার পরে-পরেই শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা পালন করে। তবে সে যেন সারা বছরই সিয়াম বা রোজা পালন করল (তিরমিজি)। এ কারণেই একদল আলেম এই ছয়দিনের রোজাকে মুস্তাহাব বলেছেন। হজরত ইবনে মুবারাক বলেন, প্রতিমাসের তিন দিন রোজা রাখার মতো শাওয়ালের ছয় দিন রোজা রাখাও ভালো আমল।
শাওয়াল মাস চলে গেলে তা কাযা করা জরুরি নয়। যেহেতু তা সুন্নত এবং তার যথাসময় পার হয়ে গেছে। তা কোনো ওযরের ফলে হোক আর বিনা ওযরে হোক

উল্লেখ্য যে, যাদের রমজানের রোজার কাজা আছে, তাদের জন্য শাওয়ালের রোজা রাখা জরুরি নয়। সেক্ষেত্রে আগে রমজানের রোজার কাজা আদায় করে নেয়া। তারপর সম্ভব হলে শাওয়ালের রোজা আদায় করা।

মনে রাখতে হবে! শাওয়ালের ৬ রোজায় বছরজুড়ে রোজা রাখার ফজিলত ওই ব্যক্তির জন্যই কার্যকর হবে, যে ব্যক্তি রমজান মাসজুড়ে ফরজ রোজা আদায় করেছেন এবং শাওয়ালের রোজা পালন করেন।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের রোজা পালনের পর শাওয়াল মাসের ৬টি রোজা রাখার মাধ্যমে বছরজুড়ে রোজা রাখার ফজিলত লাভ করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমিন।

লেখক-
শিক্ষক ও গণমাধ্যম কর্মী